RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭ ||  ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

রাজশাহীতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবাপ্রার্থীদের দুর্ভোগ 

তানজিমুল হক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০২, ৩০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০৯:২১, ৩০ অক্টোবর ২০২০
রাজশাহীতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবাপ্রার্থীদের দুর্ভোগ 

রাজশাহীতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভেতরের অবস্থা 

রাজশাহী মহানগরীর কলাবাগান এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে এসে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। স্বাস্থ্যসেবা, ডাক্তার-নার্সদের আচরণ, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোসহ নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

রোগী ও তার স্বজনরা বলছেন, এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসে তাদের অধিকাংশই গরিব। কম খরচে সেবা পাবেন এমনটা ভেবেই তারা এখানে আসেন। কিন্তু রোগী ও তার স্বজনদের প্রতি এখানকার ডাক্তার ও নার্সদের আচরণ অপ্রত্যাশীত। সরকারিভাব বরাদ্দ থাকলেও বিনামূল‌্যে কোনো ওষুধ পান না রোগীরা। এখানকার বেডগুলো অপরিষ্কার।

রোগীদের অভিযোগ, এখানে সামান‌্য কিছু পরীক্ষা করানো হয়। বেশিরভাগ পরীক্ষা করানো হয় বাইরে। তাও চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ‌্য করেন। তাদের নির্দেশিত নির্দিষ্ট জায়গায় পরীক্ষা না করানো হলে চিকিৎসকরা অবহেলা করেন। অনেক সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের রুমের বাইরে এসে বসে থাকেন। তাদের কোম্পানির ওষুধ না নিয়ে অন্য কোম্পানির ওষুধ কিনলে চিকিৎসকদের বাজে মন্তব্য শুনতে হয়। এই অবহেলার কারণে অনেক রোগী ভর্তি হওয়ার পরেও এখানে চিকিৎসা না নিয়েই চলে যান।

সেবা নিতে আসা শামীম হোসেন নামে রাজশাহী মহানগরীর মেহেরচণ্ডী এলাকার এক ব্যক্তি জানান, তার স্ত্রীর বাচ্চা প্রসাবের তারিখ দেওয়া হয়েছিল ২৮ অক্টোবর। তিনি ওই দিন সকালে সাড়ে ৮টার দিকেই এই সেবা কেন্দ্রটিতে গিয়ে রোগী ভর্তি করেন। সকাল থেকেই তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলেও বিকেল পর্যন্ত কোনো ডাক্তার বা নার্স তার স্ত্রীকে দেখেননি। এর মাঝে তিনি কয়েকবার ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপরও তারা আসেননি। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তিনি বিকেলের দিকে রাজশাহী মেডিক‌্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যেতে চান। তখন নার্সরা ডাক্তারকে ফোন করেন। পরে ডাক্তার এসে ডেলিভারি করান।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রটিতে গর্ভবর্তী মায়েদের পরামর্শ সেবাসহ প্রসবকালীন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে তিন জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন একজন।

কেন্দ্রের দায়িত্বরত ডা. শারমিন জানান, সরকারি সেবা কেন্দ্র হিসেবে এখানে রোগীদের যথেষ্ট কেয়ার করা হয়। আর সরকারি হাসপাতলের প্রতি রোগীদের সবসময় অভিযোগ থাকেই। তবে এখানে আগে সিজারিয়ান রোগীদের জন্য ওষুধের ব্যবস্থা থাকতো। যা গত দুই বছর থেকে আর সরবরাহ করা হয় না। কিন্তু প্রাথমিক ওষুধগুলো এখান থেকে দেওয়া হয়। আর সব পরীক্ষা তো এখানে করা হয় না। এজন্য তারা বাইরে থেকে টেস্ট করাতে বলেন। তবে ডাক্তাররা নির্দিষ্ট জায়গায় টেস্ট করাতে বলেন এটা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

ডা. শারমিন আরও বলেন, ‘আমাদের অফিস টাইম সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এই সময় আমরা এখানেই থাকি। তবে অন্য সময়ে আমরা অন কলিং অর্থাৎ রোগীর প্রয়োজনে নার্সরা ফোন করলে এসে সাধ‌্য অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।’

রাজশাহী/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়