ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৯ ||  ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

জঙ্গি নির্মূলের ‘হিরো’ থেকে ‘আসামি’ বাবুল আক্তার

রেজাউল করিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৯, ১২ মে ২০২১   আপডেট: ১২:৩১, ১৩ মে ২০২১
জঙ্গি নির্মূলের ‘হিরো’ থেকে ‘আসামি’ বাবুল আক্তার

বাবুল আক্তার

২৪তম বিসিএস পাশ করে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে যোগ দেন আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।

ডাকাতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গী দমনে বাংলাদেশে যে ক’জন পুলিশ কর্মকর্তা আলোচিত ছিলেন তাদের মধ্যে বাবুল আক্তার অন্যতম। পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়েই চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি আলোচনায় আসেন প্রথম। 
২০০৭ সালে অত্যন্ত ডাকাতি প্রবণ চট্টগ্রামের রাউজার উপজেলার একটি শীর্ষ ডাকাত বাহিনীর সর্দারসহ ৯ জন ডাকাত বাবুল আক্তারের অভিযানে নিহত হয়। এরপর সমগ্র চট্টগ্রাম অঞ্চলে অপরাধী সন্ত্রাসীদের আতঙ্কের নাম ছিলেন বাবুল আক্তার।

চাকরি জীবনের মাত্র ৬ বছর না পেরুতেই পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ দু’টি সম্মান পিপিএম ও বিপিএম পদক অর্জন করেন তিনি। এছাড়া, তিনি এই আইজি ব্যাজ এবং ৪ বার চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার নির্বাচিত হন।

২০১৩ সালে তিনি জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে যোগ দেন। ২০১৪ সালে ফিরে এসে প্রথমে কক্সবাজার এবং পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পদে যোগ দেন। চট্টগ্রাম নগর পুলিশে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক জঙ্গী বিরোধী অভিযান শুরু করেন।

২০১৫ সালে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বোমা মেরে ছিনতাই এবং বায়েজীদে  ন্যাংটা ফকির নামের একজনের খুনের সূত্র ধরে চট্টগ্রামে জেএমবি’র অস্তিত্ব উদ্ঘটন করেন বাবুল আক্তার। এরপর বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে চলে একের পর এক অভিযান। ২০১৫ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন খোয়াজ নগর থেকে শুরু করে ডিসেম্বর পর্যন্ত হাটহাজারীর আমানবাজারে টানা অভিযান চালিয়ে অস্ত্র-গুলি, সামারিক পোশাকসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেন।

খোয়াজ নগরে অভিযান চালানোর সময় জঙ্গিরা বাবুল আক্তারকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়লেও তিনি বেঁচে যান। বাবুল আক্তারের এসব অভিযানে গ্রেপ্তার একাধিক জঙ্গী সদস্য ক্রসফায়ারে নিহত হন। ২০১৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি লাভ করেন বাবুল আক্তার।

পুলিশ বাহিনীতে বাবুল আক্তারের ক্যারিয়ার যখন তুঙ্গে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারী চট্টগ্রামে নিজ বাসার কাছেই প্রকাশ্যে খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী দুই সন্তানের মা মাহমুদা খানম মিতু। এই হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই একই মাসেই বাবুল আক্তার পুলিশের চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেনের মেয়ে মিতু হত্যাকাণ্ডে শেষ পর্যন্ত বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৫ বছর পর মঙ্গলবার (১১ মে)পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বাবুল আক্তারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম/রেজাউল করিম/বুলাকী

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়