ঢাকা     শনিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ৯ ১৪২৯ ||  ২৭ সফর ১৪৪৪

হামিদচর খাল এখন ছোট-খাটো ড্রেন!

রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১২, ১৫ জুন ২০২১   আপডেট: ১৩:১৪, ১৫ জুন ২০২১
হামিদচর খাল এখন ছোট-খাটো ড্রেন!

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত  প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪ লেনের রিং রোড কাম বেড়িবাঁধ প্রকল্পের পাশ দিয়ে প্রবাহমান হামিদচর খালটির এখন মরদশায় পরিণত হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের যাঁতাকলে এই খালটি পরিণত হতে যাচ্ছে একটি ছোট-খাটো ড্রেনে। খালের দুই প্রান্তে পানি নিষ্কাশনের জন্য স্লুইস গেইট নির্মিত হলেও প্রকৃত অর্থে শত বছরের ঐতিহ্যের খালটি এখন মরাখালে পরিণত হচ্ছে।

সোমবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন কালুরঘাট হামিদচর এলাকায় চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত রিং রোড কাম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। এই প্রকল্পের এক পাশেই নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়। এর পাশপাশি কর্ণফুলী নদীর তীর ধরে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার রিং রোডটি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদী কেন্দ্রীক পর্যটন এবং নদী তীর রক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু এই সড়কের পাশেই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি খাল পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। 

হামিদচর এলাকার প্রায় ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা সালামত আলী রাইজিংবিডিকে জানান, তিনি জন্মের পর থেকেই দেখছেন কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই পর্যন্ত এই  হামিদচর খালটি প্রবাহমান। এক সময় এই খালে বড় বড় ট্রলার, গাছ ও পণ্যবাহী জাহাজ ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করতো। এছাড়া এই খালের মাধ্যমেই শহর থেকে পানি দ্রুত কর্ণফুলী নদীতে চলে যেতো। কিন্তু ক্রমে এই খালটি মরা খালে পরিণত হচ্ছে খালের একপাশে রিং রোড প্রকল্প নির্মিত হওয়ায় খালের অর্ধেকাংশ সড়কের পেটে চলে গেছে। এছাড়া কালুরঘাট হামিদচর এলাকায় খালটি কিছুটা প্রশস্থ থাকলেও চাক্তাই থেকে কল্পলোক আবাসিক পর্যন্ত এলাকায় এই খাল মুলত অনেকটা ড্রেনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে নগরীতে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হচ্ছে।

হামিদচর এলাকায় স্থানীয় তরুন ইব্রাহীম আনোয়ার বলেন, কর্ণফুলী নদীর তীর ধরে নির্মানাধীন রিং রোডের পাশে কালুরঘাট খালটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের অংশ। এটি প্রশস্থতা গভীরতা বহাল রেখে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সংস্কার করা হলে এখানে নদী কেন্দ্রীক পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং রক্ষা পাবে পরিবেশ-প্রতিবেশ। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকেও মুক্তিপাবে নগরবাসী।

চাক্তাই - কালুরঘাট রিং রোড কাম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিব দাশ জানান, ২০১৭ সালে এই প্রকল্পটির নির্মানকাজ শুরু হয়। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভুমি অধিগ্রহন জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

প্রকল্পের আওতায় পাশ্ববর্তী খালসমুহের সুরক্ষা ও সংস্কার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়ে প্রকৌশলী রাজিব দাশ জানান.খালের রূপ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি খালের বিভিন্ন প্রান্তে স্লুইস গেইট নির্মান করা হচ্ছে। 

প্রকল্পের কিলোমিটার এলাকায় মাটি ভরাট করে রাস্তার কাজ শেষ করা হয়েছে প্রায় । বেড়িবাঁধের উপর ট্রাপিজিয়াম আকারের এ রাস্তা ৯০ ফুট উঁচু হবে। তবে নিচে ৩০০ ফুটের ভিত্তি নির্মাণ হয়েছে। পাশ্ববর্তী খালে পানি নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য ইতিমধ্যে সাতটি স্লুইস গেট বসানো হয়েছে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে আরও দুটি স্লুইস গেটের কাজ শেষ হবে।  

চট্টগ্রাম/ রেজাউল/এমএম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়