ঢাকা     রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৭ ১৪২৯ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

পদ্মায় বিলীন হচ্ছে বলাশিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প

চাঁদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ১৩ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৪:৫৬, ১৩ আগস্ট ২০২২
পদ্মায় বিলীন হচ্ছে বলাশিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প

পদ্মার নদীর ভাঙনে প্রায় বিলিনের পথে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বলাশিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৯৫ ভাগই নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বাকি যেটুকু রয়েছে সেখান থেকেও উপকারভোগী পরিবারগুলো অন্যত্র সরে যেতে শুরু করেছেন।

সম্প্রতি নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় যে কোনো সময় অবশিষ্ট অংশ নদীতে বিলীন হবে এমন আশঙ্কা থেকেই সরে যাচ্ছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নদী ভাঙন ও অসহায় ভূমিহীন পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসতঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। জেলার ১৩টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হলো বলাশিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প। এটি চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের শিলারচর গ্রামে অবস্থিত। বলাশিয়ায় পদ্মা ও মেঘনা নদী বেষ্টিত পাঁচটি আশ্রয়ণ প্রকল্প রয়েছে। সেখানে ভূমিহীন ১০০ পরিবারকে বাড়ি তৈরী করে দেয় সরকার। তখন প্রকল্পটি থেকে নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় ৫ কিলোমিটার। তবে সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসতবাড়ি এবার পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদী ভাঙনে অনেক বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। যেসব পরিবারের ঘর বিলীন হয়েছে তারা আশপাশের চরের বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৪টি ব্যারাকের ৮০টি পরিবারের বসতঘর পদ্মায় বিলীন হয়েছে। সর্বশেষে দুটি ব্যারাকের ২০টি ঘর বিলীন হওয়ার পথে।

তারা আরো জানান, বিভিন্ন সময়ে নদী ভাঙনের কারণে আমরা ঘর-বাড়ি হারিয়েছি। এরপর এখানে এসে বর্তমান সরকারের কারণে আশ্রয় পেয়েছি। আমাদের ভাগ্য খারাপ তাই নদী ভাঙন আমাদের পিছু ছাড়ছে না। নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চাঁদপুর সদর উপজেলা থেকে রাজরাজেশ্বরও ইউনিয়নের নাম মুছে যাবে।’

সম্প্রতি আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের (অতিরিক্ত দায়িত্বে) তহসিলদার মো. নূরুল ইসলাম ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হজরত আলী বেপারীসহ ইউপি সদস্যরা।

তহসিলদার মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মার ভাঙনে বলাশিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পটি প্রায় ৯৫ ভাগই বিলিন হয়ে গেছে। যেটুকু রয়েছে সেখান থেকে উপকারভোগীদের সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাঁদপুর সদরকে জানানো হয়েছে।’

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী বলেন, ব্যারাকটি নির্মাণের পর প্রায় ১০০টি পরিবার বসবাস করতো। নদী ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছি।’

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা হক বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিষয়ের ওপর আমাদের কারো হাত নেই। উপকারভোগীদের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের মালামাল যাতে নদীতে বিলীন হওয়ার আগেই সরিয়ে আনা যায় তার চেষ্টা চলছে। উপকারভোগীদের পুনর্বাসনে বরাদ্দ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

অমরেশ/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়