ঢাকা     রোববার   ১৬ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩১

ব্যালট ছিনিয়ে নিতে সংঘর্ষ, ২ পুলিশ সদস্য আহত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ৮ মে ২০২৪  
ব্যালট ছিনিয়ে নিতে সংঘর্ষ, ২ পুলিশ সদস্য আহত

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একটি কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন হোসেন্দী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু ও তার লোকজন। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন কয়েকজন।

বুধবার (৮ মে) দুপুরে হোসেন্দী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য সাদ্দাম হোসেন, মো. শামীমসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত মনিরুল হক হোসেন্দী ইউপি’র চেয়ারম্যান। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলামের সমর্থক।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে হোসেন্দী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ চলছিল। সে কেন্দ্রে মনিরুল হক মিঠু ও তার লোকজন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে মনিরুল হক লোকজন নিয়ে ওই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন। তারা আনারস প্রতীকে সিল মারে। এতে প্রায় ঘন্টাখানেক ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে, পুনরায় কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করে তারা। সে সময় ওই কেন্দ্রের দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বদিউজ্জামান আসলে তার গাড়িও ভাঙচুর করে মনিরুলের লোকজন। পুলিশের সঙ্গে মনিরুল হক মিঠু ও তার লোকজনের কয়েক দফা গোলাগুলিও হয়।

কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, আড়াইটার দিকে কিছু লোক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে আমরা সেগুলো উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আধা ঘন্টার মত ভোট প্রদান বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে আবার ভোট প্রদান শুরু হয়।

সংঘর্ষ ও গোলাগুলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কেন্দ্রের বাহিরে হয়েছে। এ বিষয়ে আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে জানতে মনিরুল হককে মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গজারিয়া থানার ওসি রাজীব খানসহ কয়েকজন পুলিশ চেয়ারম্যান প্রার্থী মনসুর আহমদ খান জিন্নার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়েছে। তারা আমাদের সমর্থক ও লোকজনকে আনারস প্রতীকে ভোট দিতে দিচ্ছিলেন না। এতে ভোটাররা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। পুলিশ আমাদেরকে লক্ষ করে গুলি করেছে। আমাদের লোকজন আহত হয়েছে।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজিব খান বলেন, দুপুরের ঘটনার পরে দ্বিতীয় দফায় ভোট শুরু হয়েছিল। ওই পথ ধরে আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদিউজ্জামান স্যার গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় চেয়ারম্যান মনিরুলের লোকজন সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে স্যারের গাড়িতে হামলা চালায়। আমরা তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করি। তারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে আমাদের উপর আবার হামলা চালায়। আত্মরক্ষায় আমরা গুলি ছুড়ি। তাদের হামলায় আমাদের দু’জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ওসি আরও বলেন, আমাদের সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে আজ সকালে ভোট গ্রহণ চলাকালে ভোটকেন্দ্রের বাইরে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করে মনিরুল হক মিঠুর লোকজন। সে সময় ছবি ও ভিডিও করায় দৈনিক মানবজমিনের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ও মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি গোলজার হোসেনের মুঠোফোন, আইডি ও পর্যবেক্ষক কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে মনিরুল হকের উপস্থিতিতে তার সমর্থকরা মারধর করে। এ ঘটনায় মনিরুল হক মিঠুসহ ১৮ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেছেন গোলজার হোসেন।

রতন/ফয়সাল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ