ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত

মেয়েকে আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন রজনী

মেহেরপুর প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১৩, ২২ জুলাই ২০২৫   আপডেট: ১৪:২৬, ২২ জুলাই ২০২৫
মেয়েকে আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন রজনী

উম্মে হাবিবা রজনী

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩১ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। মেয়েকে ওই স্কুল থেকে আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন উম্মে হাবিবা রজনী (৩৭)। 

রজনীর মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট গ্রাম। শোকাহত স্বজন ও গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রজনীর মরদেহ তার বাবার বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা, ভাই-বোনসহ স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসী শেষবারের মতো দেখার পর রজনীর মরদেহ তার স্বামীর বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সাজিপুর গ্রামে নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন:

উম্মে হাবিবা রজনী মটমুড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবদুল হামিদের মেয়ে এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সাজিপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জোহরুল ইসলামের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে ঢাকার উত্তরায় বাস করতেন রজনী। তাদের একমাত্র মেয়ে ঝুমঝুম (১২) ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রতিদিনের মতো সোমবার মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়েছিলেন রজনী। এ সময় হঠাৎ একটি প্রশিক্ষণ বিমান তাদের সামনে বিধ্বস্ত হলে উম্মে হাবিবা রজনী মারাত্মক দগ্ধ হন। তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রজনী।

উম্মে হাবিবা রজনীকে কুষ্টিয়া দৌলতপুরের চর সাজিপুর গ্রামে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। 

রজনীর মেয়ে ঝুমঝুম আহত হলেও সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সে পরিবারের সঙ্গে আছে।

রজনীর অকাল মৃত্যুতে বাওট গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রজনী ভালো মানুষ ছিলেন। 

ঢাকা/ফারুক/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়