ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চার বছরেও মেলেনি প্রাথমিকের বৃত্তির টাকা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ৩১ আগস্ট ২০২৫  
চার বছরেও মেলেনি প্রাথমিকের বৃত্তির টাকা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৃত্তির টাকা না পাওয়ায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। চার বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃত্তি পেলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা পাননি। ফলে তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২২ সালে দৌলতপুর উপজেলার ২৮৪টি বিদ্যালয় থেকে ২ হাজার ৩১০ জন প্রাথমিক পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে মেধা ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে ১৯৩ জন। কিন্তু বৃত্তিপ্রাপ্ত হওয়ার চার বছর পার হতে চললেও  কেউ বৃত্তির টাকা পাননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক ও শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অভিভাবকরা বলছেন, দিনের পর দিন ঘুরেও তারা শুধু আশ্বাস পেয়েছেন,পাননি সমাধান।

২০২২ সালে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান আবু ওবাইদুল্লাহ সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘‘আমি তারাগুনিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে ২০২২ সালে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলাম। এখন আমি তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ি। এখন পর্যন্ত আমার প্রাপ্য (প্রতি মাসে ৩০০ টাকা) বৃত্তির টাকা পাইনি। এমন হলে বৃত্তি পেয়ে লাভ কি হলো?’’

বুলবুল আহমেদ নামে অপর এক অভিভাবক বলেন, ‘‘টাকা বড় ব্যাপার নয়, কিন্তু জীবনের শুরুতেই এমন অভিজ্ঞতা ওদের মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করে ভবিষ্যতে যেন এমন না হয় তা নিশ্চিত করা।’’

তহমিনা খাতুন নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘‘আমার মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে বৃত্তি পেয়েছিল। কিন্তু আজও সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি মেলেনি। সে মনোবল হারাচ্ছে।’’

তারাগুনিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘২০২২ সালে আমাদের বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল। কিন্তু প্রাপ্য টাকা না পাওয়ায় অভিভাবকরা বারবার অভিযোগ করছেন। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ বিলম্ব হচ্ছে বলে আমরা ধারণা করছি।’’

এ প্রসঙ্গে দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। তবে যতদূর জানি, যাচাই-বাছাই শেষে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। অর্থ ছাড় সংক্রান্ত বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেখছে। শুধু দৌলতপুর নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।’’

দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন বলেন, ‘‘বৃত্তিপ্রাপ্তদের সম্মানস্বরূপ পুরস্কার হিসেবে যে টাকা দেওয়া হয়, তা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হাতে না। এগুলো শিক্ষার্থী যে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি হয়েছে তারা দেখভাল করে।’’

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দৌলতপুর সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়ার আলী বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীরা ভর্তির সময় তাদের বৃত্তির কাগজপত্রসহ আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত বৃত্তির টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসেনি। কেন আসেনি তা আমাদের জানা নেই।’’

বৃত্তির অর্থ না পাওয়ার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিকীর দৃষ্টি আকষণ করা হলে তিনি ‘‘বিষয়টি সম্পর্কে আমার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা নেই’’ বলে বিস্তারিত পরে জানানোর আশ্বাস দেন। 

ঢাকা/কাঞ্চন 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়