পরকীয়ার জেরে মায়ের সন্তান হত্যা, ২০ দিন পর মিলল লাশ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পরকীয়ার জেরে তিন বছরের কন্যা সন্তানকে হত্যা করে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেতু বেগম (২৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ঘটনার ২০ দিন পর আজ শনিবার শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। অভিযুক্ত মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শিশু ফারিয়া গোপালগঞ্জ সদরের গোবরা নিলারমাঠ গ্রামের রুবেল শেখের মেয়ে।
নিহতের নানী পারভিন আক্তার জানান, প্রায় ছয় মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে ফরিদপুরের সদরপুর থানার বাড়ৈহাট গ্রামের মিরাজ মোল্লার সঙ্গে সেতু বেগমের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের জের ধরে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সেতু বেগম প্রেমিকের সহায়তায় সন্তানের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে শিশুটির মরদেহ বাড়ির ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখে।
ঘটনার পর সেতু বেগম প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। তবে ২০ দিন পর প্রেমিক তাকে রেখে চলে গেলে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় সেতুর পরিবারের সদস্যরা ফারিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
পরে পরিবারের লোকজন তাকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। সেতু বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আজ শনিবার তার স্বামীর বাড়ির ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রতিবেশী শেফালি বেগম বলেন, ‘‘সেতুর স্বামী বিদেশে থাকেন। শাশুড়ি মারা গেছে আগেই। শ্বশুর বৃদ্ধ মানুষ। তিনি মসজিদে ও বাজারঘাটেই বেশি সময় থাকে। সেতুর সাথে পরিবারের ভালো সম্পর্ক ছিল না।’’
‘‘এলাকায় কারো সঙ্গে সেতুর সুসম্পর্ক না থাকার কারণে তার বাড়িতে কেউ যাতায়াত করত না। আজ জানতে পারলাম সে নিজের সন্তানকে হত্যা করেছে। সন্তান যদি মায়ের কাছেই নিরাপদ না থাকে তাহলে কোথায় তার স্থান?’’ বলেন শেফালি।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘‘ঘাতক মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’’
ঢাকা/বাদল//