লক্ষ্মীপুরে চোর নিয়ে পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষে আহত ২০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় আটক চার চোরকে নিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন। রাস্তায় বাঁশসহ গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেন তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ির শাহ আলম তার অটোরিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে চারজন সন্দেহভাজন চোরকে আটক করেন। অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও চোরেরা ব্যাটারি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। ফলে আটকদের বাড়িতে নিয়ে ব্যাটারির জন্য মারধর করা হয়।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাটারি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ছাড়বে না বলে জানায় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় রায়পুর থানা পুলিশের মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এসময় সড়কের দুই পাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
রিকশা চালক শাহ আলম বলেন, “আমরা ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য চোরদের আটক করে রেখেছি। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়। তাদের না দেওয়ায় পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়েছেন।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, “চারজনকে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে, ৯৯৯ নম্বরে এমন তথ্য পেয়ে আমাদের মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায়। অনেক চেষ্টা করে যখন অভিযুক্ত চারজনকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন পেছন থেকে ২০-৩০ জন এলাকাবাসী ইট ছুড়তে থাকে। এতে আমাদের এক এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।”
তিনি বলেন, “আটক চার চোর থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। রিকশা চুরির ঘটনায় মালিক মামলা দিলে মামলা নেব। আর পুলিশ আহতের ঘটনায় মামলা হবে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
ঢাকা/জাহাঙ্গীর/মাসুদ