ঢাকা     বুধবার   ০৪ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৯ ১৪৩২ || ১৪ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মাদক নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩১, ৩ মার্চ ২০২৬  
মাদক নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

ফরিদপুরে মাদক নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাজু ওরফে বাটুল রাজু (৩৮) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় ওই যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহত রাজু ফরিদপুর শহরের ২ নম্বর কুটিবাড়ী মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনির বাসিন্দা বাবলু কসাইয়ের ছেলে। রাজু এক মেয়ে ও এক ছেলের বাবা।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী বেগমের জামাতা হৃদয় শেখ ও তার চার-পাঁচ জন সহযোগী চাপাতি, রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজুর ওপর হামলা চালায়। তারা রাজুর দুই পা ও ডান হাতের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়।

এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত রাজুর মা ছবি বেগম জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে শহরের স্টেশন বাজার-সংলগ্ন লাশ কাটা বস্তি এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানকালে শিল্পীকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করা হয়। এ অভিযানের ঘটনায় রাজু জড়িত সন্দেহে শিল্পীর জামাতা হৃদয় তার সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

রাজুর ছেলে নীরব অভিযোগ করেছে, হৃদয় ও তার সহযোগীরা তার বাবাকে ধরে আগে চোখে-মুখে হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় তার বাবা নিচে পড়ে গেলে তখন তাকে কুপিয়ে জখম করে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।

রাজুর বাবা বাবলু কসাই বলেছেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই। এর বিচার না হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়তেই থাকবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, রাজুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, “মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হৃদয় শেখ নামে যার কথা শোনা যাচ্ছে, সে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশ একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।” 

পুলিশ সুপার আরো বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। এ পর্যন্ত সন্দেভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

ঢাকা/তামিম/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়