ঢাকা     শনিবার   ০৭ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২২ ১৪৩২ || ১৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চাইতে গিয়ে মা-মেয়ের কারাদণ্ড

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ৬ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৪:৫৭, ৬ মার্চ ২০২৬
‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চাইতে গিয়ে মা-মেয়ের কারাদণ্ড

ফাইল ফটো

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চাইতে গিয়ে এক কলেজশিক্ষার্থী ও তার মাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম এ আদেশ দেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) এবং তার মেয়ে কলেজশিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাত (২৩)।

আরো পড়ুন:

মা-মেয়ের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে দিতে পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লব তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। ওই প্রতিবেদন প্রতিপক্ষের পক্ষে জমা দিলে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে টাকা ফেরতের বিষয়ে কথা বলতে মা-মেয়ে পেকুয়া থানায় যান।

তাদের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে এসআই পল্লব ক্ষিপ্ত হয়ে মা-মেয়েকে মারধর করেন এবং থানায় আটকে রাখেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী মনজিলা বেগম বলেন, “তারা (মা-মেয়ে) থানায় গিয়ে এসআই পল্লবের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চান। এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পরে পুলিশ সদস্যরা মা-মেয়েকে আটকে রখেন। কিছুক্ষণ পর ইউএনও মাহবুব আলম থানায় এসে ঘটনাটি শুনলেও ঘুষের অভিযোগ আমলে নেননি। বরং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

রেহেনা মোস্তফা রানুর ছেলে রুবেল অভিযোগ করে বলেন, “জমি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে এসআই পল্লব দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছিলেন। ন্যায়বিচার চাওয়ার বদলে আমার মা ও বোনকে উল্টো অভিযুক্ত করা হয়েছে।”

রেহেনা মোস্তফা রানুর বোন আমেনা মুন্নী বলেন, “পরিকল্পিতভাবে তাদের ফাঁসানো হয়েছে।” অবিলম্বে মা-মেয়েকে মুক্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে এসআই পল্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম বলেন, থানায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি জানান।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, “মা-মেয়ে থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন, এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

ঢাকা/তারেকুর/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়