ঢাকা     বুধবার   ১৮ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৫ ১৪৩২ || ২৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

শেবাচিমে আগুন লাগার কারণ জানাল ফায়ার সার্ভিস  

বরিশাল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৫, ১৮ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১২:০১, ১৮ মার্চ ২০২৬
শেবাচিমে আগুন লাগার কারণ জানাল ফায়ার সার্ভিস  

মঙ্গলবার রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পঞ্চম তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পঞ্চম তলার স্টোর রুমে (ফোমের গোডাউন) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।  

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মানিকুজ্জামান বলেন, “দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আগুনে স্টোর রুমে থাকা ফোম ও পুরাতন চিকিৎসা সামগ্রী পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।”

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে আগুনেসর সূত্রপাত হয়। ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের সময় পাশের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে চরম ভীতি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় অক্সিজেন সংকট দেখা দিলে দুইজন রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। 

নিহতরা হলেন- বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারৈয়ার হাট এলাকার আব্দুর রশিদ হাওলাদারের ছেলে আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তি পটুয়াখালী সদরের মমিন কাজীর পুত্র আতাউর রহমান কাজী।

এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আনসার সদস্য রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল আহত হয়েছেন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মারা যাওয়া কাজী আতাউর রহমানের ছেলের বউ শারমিন জানান, ভবনের পঞ্চম তলায় অগ্নিকাণ্ডের সময় তার শ্বশুর কাজী আতাউর রহমান চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন। তার ইনহেলার ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয় সর্বদা। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়া নিচে নামানো হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

আবুল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম জানান, তার বাবা অসুস্থ হয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ছিলেন। রাতের বেলা মা ও বোনকে বাবার কাছে রেখে বাড়িতে যান। আগুন লাগার খবরে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে এসে বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।”

ঢাকা/পলাশ/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়