ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১০ ১৪৩৩ || ৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অভিযোগ

৭ মাসের সন্তানকে হত্যার পর ডোবায় ফেলে রাখেন বাবা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ২৩ এপ্রিল ২০২৬  
৭ মাসের সন্তানকে হত্যার পর ডোবায় ফেলে রাখেন বাবা

স্বজনদের আহাজারি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের সাত দিন পর তানভীর ওরফে মুজাহিদ নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের একটি বিলের ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তানভীর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি পুরানগাও এলাকার মেরাজ মিয়ার ছেলে।

আরো পড়ুন:

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ভৈরবের গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের তাসলিমা বেগমের সঙ্গে একই ইউনিয়নের পুরানগাঁও এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়ার প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। সাত মাস আগে তাদের ঘরে তানভীরের জন্ম হয়।

সম্প্রতি স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হওয়ার পর তাসলিমা বেগম অভিমান করে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। গত ১৬ এপ্রিল বাবা মেরাজ মিয়া শ্বশুরবাড়িতে এসে অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাসলিমার কাছ থেকে নিয়ে যান। কিন্তু সারাদিন পেরিয়ে গেলেও তিনি আর শিশুকে মায়ের কাছে ফেরত দিয়ে যাননি।

পরদিন তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন শিশুকে ফিরিয়ে আনতে মেরাজ মিয়ার বাড়িতে গেলেও সেখানে শিশু তানভীরকে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকলে ২১ এপ্রিল শিশুর মা তাসলিমা বেগম ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বাইদের বনের একটি ডোবায় শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

শিশুটির মামা আব্দুল হাকিম মিয়া অভিযোগ করেন, তার বোন জামাই পরিকল্পিতভাবে ভাগিনাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে মরদেহ ডোবায় ফেলে দিয়েছে।

একই অভিযোগ করেছেন শিশুটির মা তাসলিমা বেগম। এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মেরাজ মিয়া ও তার মা রাবেয়া পলাতক রয়েছেন।

ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, “মানিকদি গ্রামের একটি ডোবায় শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

ঢাকা/রুমন/রাজীব

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়