রিং শাইনের নিরীক্ষায় অনিয়ম, একাধিক অডিটর-ফার্মকে নিষেধাজ্ঞা
নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইল লিমিটেডের নিরীক্ষা কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে একাধিক অডিটর ও অডিট ফার্মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির ২০১৭ থেকে ২০২০ অর্থবছরের নিরীক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনায় দায়বদ্ধতার ঘাটতি ও বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। বিষয়টি অডিট খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)-কে অবহিত করা হলেও গৃহীত ব্যবস্থা কমিশনের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের এক সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৪(৫) অনুযায়ী নিজস্ব ক্ষমতায় অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নিরীক্ষা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোং-কে তিন বছরের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এনগেজমেন্ট পার্টনার মো. আব্দুস সাত্তারকে পাঁচ বছরের জন্য একই ধরনের কাজে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া ২০১৯ সালের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আতা খান অ্যান্ড কোং এবং সংশ্লিষ্ট এনগেজমেন্ট পার্টনার মকবুল আহমেদকে যথাক্রমে তিন ও পাঁচ বছরের জন্য বিএসইসির প্যানেল অব অডিটরসে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
একইভাবে ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং এবং সংশ্লিষ্ট এনগেজমেন্ট পার্টনার রামেন্দ্র নাথ বসাককেও যথাক্রমে তিন ও পাঁচ বছরের জন্য প্যানেল অব অডিটরসে অন্তর্ভুক্তির অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১৭ সালের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আকতার-এর এনগেজমেন্ট পার্টনার কাঞ্চি লাল দাস মৃত্যুবরণ করায় তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে চিঠি পাঠানো হবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরীক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরীক্ষায় অনিয়ম বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং বাজারে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
বিএসইসি বলছে, সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনগেজমেন্ট পার্টনাররা পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নিরীক্ষা একটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম হওয়ায় এতে গাফিলতি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। এফআরসি’র পূর্ববর্তী ব্যবস্থা যথেষ্ট প্রতিরোধমূলক না হওয়ায় কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন রাইজিংবিডিকে বলেন, “নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এফআরসিকে আরও সক্রিয় ও কঠোর হতে হবে। কোনো অডিটর যদি জেনে-বুঝে আর্থিক চিত্র বিকৃত করেন, তবে দ্রুত ও কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা ছাড়া বাজার স্বচ্ছতা ফেরানো সম্ভব নয়।”
ঢাকা/এনটি/বকুল
২ জাহাজ আটক করেছে ইরান