গরম এড়াতে রাতে গোসল করছেন? ভালো-মন্দ জেনে নিন
লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
গরমের তীব্রতা থেকে রেহাই পেতে ঠান্ডা ও স্বস্তিতে রাখার নানা উপায় আমরা খুঁজি। সারাদিনের ক্লান্তি আর ঘাম দূর করার জন্য রাতে গোসল করা অনেকের কাছেই বেশ আরামদায়ক মনে হয়। এটি শুধু শরীর ঠান্ডা করে না, বরং মনকেও শান্ত করে এবং ঘুমের আগে এক ধরনের প্রশান্তির অনুভূতি দেয়। তবে প্রশ্ন থাকে—গরমকালে রাতে গোসল করা কি সত্যিই ভালো?
রাতে গোসল করার কিছু উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি কিছু সতর্কতাও রয়েছে। সঠিক নিয়মে গোসল করলে এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। আবার ভুলভাবে করলে ঠান্ডা লাগা বা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই বিষয়টি বুঝে এবং নিয়ম মেনে করা জরুরি। গরমে রাতে গোসলের উপকারিতা জেনে নিন।
১. শরীর ঠান্ডা রাখা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
রাতে গোসল শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গরমের দিনে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তাপ কমাতে এটি কার্যকর। হালকা গরম বা কুসুম গরম পানি রক্তনালিকে প্রসারিত করে (ভাসোডাইলেশন), যার ফলে শরীরের ভেতরের তাপ সহজে বের হয়ে যায়। পানির ছোঁয়া শরীরে প্রশান্তি এনে দেয় এবং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে।
২. ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি
গোসলের সময় গরম পানি পেশিকে শিথিল করে, ফলে শরীরের টান কমে যায়। এটি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। গোসলের পর শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সংকেত দেয়। ফলে দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুমের মান ভালো হয়।
৩. ত্বক পরিষ্কার রাখা
দিনভর ঘাম, ধুলো-ময়লা ও দূষণ ত্বকে জমে থাকে। রাতে গোসল করলে এসব ময়লা সহজে দূর হয়। এতে ত্বকের রন্ধ্রগুলো পরিষ্কার থাকে এবং ব্রণ বা অন্যান্য ত্বকের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমে। এছাড়া সানস্ক্রিনের অবশিষ্টাংশও ভালোভাবে পরিষ্কার হয়ে যায়, যা ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা
গোসলের সময় ময়েশ্চারাইজিং সাবান বা তেলে সমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এতে সারাদিনে হারানো আর্দ্রতা ফিরে আসে। আর্দ্র ত্বক বাইরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শুষ্কতা, খোসা ওঠা বা চুলকানি কমায়।
রাতে গোসলের উপকারিতা পেতে হলে মানতে হবে কিছু নিয়ম। যেমন:
অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুন: খুব গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে ত্বক শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই ভালো।
গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন: এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়।
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে গোসল করুন: এতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে সময় পায় এবং ভালো ঘুম আসে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা থাকে এবং ডিহাইড্রেশন এড়ানো যায়।
সূত্র: ওয়েলনেস কর্ণার
ঢাকা/লিপি
নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার