যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন কানাডার ‘দুর্বলতা’: মার্ক কার্নি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি
দীর্ঘ কয়েক দশকের অংশীদারিত্বে পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতি-ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এখন কানাডার জন্য একটি ‘দুর্বলতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তার মতে, এই নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে। খবর আল-জাজিরার।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) ১০ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের বিষয়ে এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কানাডাকে অবশ্যই যেকোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে সরে আসতে হবে।
কার্নি বলেন, “বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক ও বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্য নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে এবং শুল্কের হার এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যা শেষবার মহামন্দার সময় দেখা গিয়েছিল।”
তিনি আরো যোগ করেন, “এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে নিবিড় সম্পর্ককে আমরা শক্তি মনে করতাম, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার অনেক কিছুই এখন আমাদের দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এই দুর্বলতাগুলো দ্রুত সংশোধন করতে হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য এবং উচ্চ শুল্কের হুমকি বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন, তা কানাডার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওর এক পর্যায়ে কার্নিকে ১৮১২ সালের যুদ্ধের ব্রিটিশ সেনাপতি জেনারেল আইজ্যাক ব্রকের একটি ছোট প্রতিকৃতি হাতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, ব্রক তৎকালীন কানাডায় মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন। ইতিহাসের সেই প্রসঙ্গ টেনে কার্নি বলেন, “আজকের পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন, কিন্তু আমরা আগেও এই ধরনের হুমকির মোকাবিলা করেছি এবং সফল হয়েছি।”
২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযাচিত শত্রুভাবাপন্ন’ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। চলতি মাসের বিশেষ নির্বাচনে তার দল লিবারেল পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে তার হাত আরো শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার আগেই কার্নি তার অবস্থান পরিষ্কার করলেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বর্তমানে কিছুটা নমনীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে, তবুও কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
রবিবার কার্নি স্পষ্ট করেই বলেন, “আমাদের নিজেদের যত্ন নিজেদেরই নিতে হবে কারণ আমরা একটি মাত্র বিদেশি অংশীদারের ওপর নির্ভর করতে পারি না। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে আসা অস্থিরতা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। পরিস্থিতি হঠাৎ ঠিক হয়ে যাবে- এমন আশায় আমরা আমাদের ভবিষ্যৎকে বাজি ধরতে পারি না।”
ঢাকা/ফিরোজ