রাস্তা দখল করে দোকান, ভোগান্তিতে তালিয়া গ্রামের হাজারো মানুষ
গাজীপুর (পূর্ব) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
তালিয়া গ্রামে সরকারি খাস রাস্তা দখল করে দোকান নির্মাণ
খাস জমির রাস্তায় দোকান নির্মাণ, ভোগান্তিতে তালিয়া গ্রামের হাজারো মানুষ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালিয়া গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাস রাস্তা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আবু ছাইদ খন্দকার নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় অভিযোগকারী মো. আবু ছাইদ খন্দকারসহ তালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ফিরোজ তালুকদার, বাচ্চু খন্দকার এবং আরো কয়েকজনের সঙ্গে। তারা জানান, প্রায় আড়াই হাজার মানুষের বসবাস এই তালিয়া গ্রামে। গ্রামটিতে একটি সরকারি হাসপাতাল ও তিনটি মসজিদ রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পাশে কুলুন গ্রামে একটি গির্জা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।
পশ্চিম পাশে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মৈনারটেক বাজার থাকায় এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রামের মাঝামাঝি তিন রাস্তার মোড় থেকে পশ্চিমে ৩০ ফুট প্রস্থ আনুমানিক ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বালু নদী পর্যন্ত একটি সরকারি খাস রাস্তা রয়েছে।
সিএস ও আরএস জরিপ অনুযায়ী নির্ধারিত এই রাস্তা দিয়ে তালিয়া ও আশপাশের গ্রামের মানুষ নৌপথে কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল পরিবহন করে থাকেন। এছাড়া তেরমুখ ব্রিজের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে এ পথটির গুরুত্ব অপরিসীম।
তবে অভিযোগ রয়েছে, তালিয়া গ্রামের মো. সোহেল আকন্দ ও মোসা. সেলিনা আক্তার ওই খাস রাস্তার একটি অংশ দখল করে সেমিপাকা দোকানঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে রাস্তার একটি অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এলাকাবাসী আরো অভিযোগ করেন, রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও অভিযুক্তরা তা আমলে নেননি। বরং প্রতিবাদকারীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সোহেল আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার মামা আব্দুল আজিজের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আমি তার কাছ থেকে জায়গাটি নিয়েছি।”
পরে আব্দুল আজিজ জানান, “আমি যে স্থাপনাটি নির্মাণ করেছি, তা আমার পৈতৃক সম্পত্তির ওপরই করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকারি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখুক। যদি প্রমাণিত হয় যে এটি সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত, তবে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব। প্রয়োজনে নিজ উদ্যোগে স্থাপনাও অপসারণ করব। তবে আমার বৈধ দাগ অনুযায়ী সম্পত্তি সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, “সরকারি খাস জমি বা রাস্তা দখলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম কামরুল ইসলাম বলেন, “জনস্বার্থে ব্যবহৃত কোনো রাস্তা অবৈধভাবে দখল বা বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাস্তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।”
এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে খাস রাস্তা দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা/রফিক/ফিরোজ