ঢাকা     রোববার   ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৬ ১৪৩৩ || ১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কনস্টেবল সম্রাটের মৃত্যু, স্ত্রীকে দায়ী করছে পরিবার

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৬  
কনস্টেবল সম্রাটের মৃত্যু, স্ত্রীকে দায়ী করছে পরিবার

সম্রাটের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা| ইনসেটে সম্রাট

কর্তব্যরত অবস্থায় নিজের অস্ত্রের গুলিতে সম্রাট বিশ্বাস নামে খুলনা রেলওয়ে পুলিশের এক কনস্টেবলের মৃত্যু হয়। সম্রাটের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। তার এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন স্ত্রীকে।    

সম্রাটের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামে।  

আরো পড়ুন:

শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সম্রাটের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়| এ সময় পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা|

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সম্রাট সবার ছোট| বড় বোন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ও ছোট বোন মাস্টার্সে অধ্যায়নরত| ২০১৮ সালে পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান সম্রাট| চাকরিরত অবস্থায় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পুঁজা দাসের সঙ্গে| ছয় মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে রেজিস্ট্রি করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা| সামনের মাসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কথা ছিল তাদের| 

সম্রাটের স্ত্রী পূজা বিশ্বাসও পুলিশ সদস্য, বর্তমানে কর্মরত সাতক্ষীরা জেলায়| তার পরিবারের দাবি, কয়েকদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল সম্রাট ও তার স্ত্রীর মধ্যে| গতরাতে স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি হয় সম্রাটের| মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ ছিলেন তিনি| এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এমনকি মৃত্যুর খবরে স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি খুলনায় এলেও আসেননি গ্রামের বাড়িতে। 

শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সম্রাটের বাবা-মা| ছেলের মৃত্যুর কথা তারা যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না| বারবার ছেলের নাম ধরে ডেকে উঠছেন। 

প্রতিবেশী আলমগীর ফকির বলেছেন, “সম্রাট এলাকার একজন ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন| তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না| যদি নিজের কষ্ট কারও সঙ্গে ভাগ করতেন, হয়তো এমনটা হতো না|’

সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় বলেন, “আমরা খবর পেয়ে খুলনা গিয়ে আমার ভাগ্নের মরদেহ হাসপাতালে পড়ে থাকতে দেখি| ৬ মাস আগে আমাদের সে জানায় সাতক্ষীরা পুলিশে চাকরি করে এক মেয়েকে সে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়| পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে আমরা আর কিছু না ভেবে দুই পরিবার থেকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে দেই| বিয়ের পর থেকে পরিবারে সে এক টাকাও দিত না|”

তিনি আরো বলেন, “ওর সহকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি প্রতিদিনই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো| গতরাতে ফোনে দুজনের মধ্যে রাগারাগি হয়| এরপরই এ ঘটনা ঘটিয়েছে|”

সম্রাটের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন বলেন, “মা-বাবার সঙ্গে আমার শালার কোনো ঝামেলা ছিল না| পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে যা বলতো পরিবার তাই মেনে নিত| ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছে, পরিবার তাই মেনে নিয়েছে| স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন যাবৎ ওর ঝগড়া বিবাদ চলছিল। এ কারণেই ও আত্মহত্যা করেছে| এছাড়া আমরা আর কোনো কারণ খুঁজে পাই না|”

তবে সম্রাটের স্ত্রী বা তার মা-বাবার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে খুলনার নগরের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে সম্রাটের মৃত্যু হয়। 

গতকাল পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান বলেন, “শনিবার ভোরে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন সম্রাট বিশ্বাস। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।” 

ঢাকা/বাদল/ইভা  

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়