ট্রাম্পের পোস্টে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু
লেবাননে বিমান হামলা চালানো ইসরায়েলের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তাতে হতবাক হয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একজন মার্কিন সূত্র এবং এ বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাদ্যম অ্যাক্সিওসকে এ কথা জানিয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের পোস্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার উপদেষ্টারা হতবাক হয়েছেন। এই পোস্টটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির পাঠ্যের পরিপন্থী ছিল। কারণ চুক্তি অনুসারে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির সময়েও ‘পরিকল্পিত, আসন্ন বা চলমান আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার্থে যেকোনো সময়’ সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
ট্রাম্প তার পোস্টে এমন একটি আদেশ জারি করেছেন যা মানা ছাড়া ইসরায়েলের আর কোনো উপায় নেই- অন্যান্য মার্কিন প্রশাসনের অধীনে অকল্পনীয় হতো।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, পোস্টটির বিষয়ে জানতে পেরে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে হতবাক ও শঙ্কিত হয়েছিলেন।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন যে ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
তিনি তার পোস্টে লিখেছেন, “ইসরায়েল আর লেবাননে বোমা হামলা চালাবে না। যুক্তরাষ্ট্র তাদের এটি করতে নিষেধ করেছে। আর নয়!!!”
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে চান।
তিনি বলেছেন, “ইসরায়েলকে এটা বন্ধ করতে হবে। তারা এভাবে ভবন উড়িয়ে দিতে পারে না। আমি এটা হতে দেব না।”
নেতানিয়াহু এবং তার দল গণমাধ্যমের মাধ্যমে ট্রাম্পের লেবানন বিষয়ক মন্তব্য সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তারা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েন। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটারসহ সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে কিনা তা বোঝার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসের কাছে স্পষ্টীকরণের জন্য অনুরোধ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যটি চুক্তির পরিপন্থী।
অ্যাক্সিওস হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়ার পর, একজন মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্পের মন্তব্য স্পষ্ট করেন।
মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রেসিডেন্টের করা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, ইসরায়েল লেবাননের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালাবে না, তবে পরিকল্পিত, আসন্ন বা চলমান আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করে।”
ঢাকা/শাহেদ
জিলকদ মাস শুরু সোমবার