ঢাকা     শুক্রবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৪ ১৪৩৩ || ২৯ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত: জয়সওয়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১২, ১৭ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৯:৩৪, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত: জয়সওয়াল

শুক্রবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠিত আইনি ও বিচারিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পর্যালোচনা করছে। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন:

জয়সওয়ালের এই ঘোষণাটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসেছে, যখন ভারত ‘জুলাই বিপ্লবে’ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকায় নবগঠিত সরকারের সঙ্গে তার অংশীদারিত্বকে স্থিতিশীল করতে চাইছে।

সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়াল বলেন, “চলমান বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে সকল অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব। আমরা সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।”

প্রত্যর্পণের এই অনুরোধটি ভারত প্রথম ২০২৫ সালে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছিল। এটি এখন ভারতের বিচারিক কাঠামোর মধ্যে একটি কঠোর মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জয়সওয়াল জোর দিয়ে জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়াটি অভ্যন্তরীণ আইনি প্রোটোকলের মাধ্যমে আবদ্ধ।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এই বিষয়টিকে ঘিরে সংবেদনশীলতা থাকা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক কার্যক্রম’ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার ওপর আলোকপাত করে জয়সওয়াল বলেন, “আমি এটাও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার ব্যাপারে ভারতের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।”

বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহযোগিতার নতুন প্রস্তাব অন্বেষণের জন্য উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক মাধ্যম ব্যবহার করতে সম্মত হয়েছে। 

একটি সুসংগঠিত ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার দিকে ইঙ্গিত করে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মন্তব্য করেন, “উভয় পক্ষ প্রাসঙ্গিক দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদারিত্বকে আরো গভীর করার প্রস্তাব অন্বেষণে সম্মত হয়েছে।”

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে অচলাবস্থা সত্ত্বেও অংশীদারিত্ব যাতে স্থিতিশীল থাকে, তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষের মতামত জানতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান জয়সওয়াল।

ঢাকা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়