ইরানের জব্দকৃত ২০ বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি তিন পৃষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। এই পরিকল্পনার একটি আলোচ্য বিষয় হলো, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ওয়াশিংটন তেহরানের জব্দকৃত ২০ বিলিয়ন ডলার তহবিল ছেড়ে দেবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার চেষ্টায় মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা সম্ভবত এই সপ্তাহান্তে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য মিলিত হবেন।
মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার সাথে পরিচিত একটি সূত্রের মতে, আলোচনাটি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এটি সম্ভবত রবিবার অনুষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে এবং নেপথ্যে থেকে মিশর ও তুরস্ক সমর্থন দিচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো এটা নিশ্চিত করা যে, ইরান যেন তাদের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় পুঁতে রাখা প্রায় দুই হাজার কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, বিশেষ করে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম ব্যবহার করতে না পারে। অন্যদিকে, ইরানিদের অর্থের প্রয়োজন।
এই মজুতের কী হবে এবং ইরানের কতটুকু সম্পদ অবমুক্ত করা হবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করছে। ইরান কোন শর্তে সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে, তা নিয়েও তারা আলোচনা করছে।
দুটি সূত্র অনুসারে, আলোচনার একটি প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক সামগ্রী কেনার জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড়তে প্রস্তুত ছিল। ইরানিরা ২৭ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ যে অংকটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা হলো ২০০ কোটি ডলার। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে এটি একটি মার্কিন প্রস্তাব ছিল। অন্য একজন মার্কিন কর্মকর্তা ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে নগদ অর্থ প্রদানের ধারণাটিকে ‘অনেক আলোচনার মধ্যে একটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তার সমস্ত পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ব্যাপারে সম্মত হতে বলেছে, অন্যদিকে ইরানিরা কেবল ইরানের অভ্যন্তরেই তা ‘ডাউন-ব্লেন্ড’ করতে সম্মত হয়েছে।
বর্তমানে আলোচনাধীন একটি আপোস প্রস্তাব অনুসারে, কিছু উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম একটি তৃতীয় দেশে পাঠানো হবে। তবে এই তৃতীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র নয়। উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ইরানের অভ্যন্তরে ডাউন-ব্লেন্ড করা হবে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়টি হলো, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচিত তিন পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের উপর একটি ‘স্বেচ্ছামূলক’ স্থগিতাদেশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরান যেন ২০ বছরের জন্য এই স্থগিতাদেশে সম্মত হয়। ইরান এর জবাবে পাঁচ বছরের প্রস্তাব দেয়। মধ্যস্থতাকারীরা এখনো এই ব্যবধান ঘোচানোর চেষ্টা করছেন।
সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে, ইরানকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে আইসোটোপ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক গবেষণা চুল্লি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে দেশটি এই অঙ্গীকার করবে যে তার সমস্ত পারমাণবিক স্থাপনা ভূপৃষ্ঠের উপরে থাকবে। বিদ্যমান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় থাকবে।
ঢাকা/শাহেদ
ইরানের জব্দকৃত ২০ বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র