ঢাকা     শুক্রবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৪ ১৪৩৩ || ২৯ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অজুহাত দিয়ে বাঁচার উপায় নেই, ম্যাচ হারের পর সাইফ

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০২, ১৭ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২২:০৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
অজুহাত দিয়ে বাঁচার উপায় নেই, ম্যাচ হারের পর সাইফ

সাইফ হাসান।

“আমাদের মানিয়ে নিতে হবে”-সংবাদ সম্মেলনে সাইফ হাসানের এমন বক্তব্য যেন উপস্থিত কারো বিশ্বাস হচ্ছিল না। নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশকে মানিয়ে নিতে হবে? নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে হারের পর কন্ডিশন, উইকেট সম্পর্কে এমনটাই বলেছেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করা সাইফ হাসান।

ঈদের পর গত ২৬ মার্চ থেকে দীর্ঘ প্রস্তুতি শুরু করে বাংলাদেশ। লক্ষ্য নিউ জিল্যান্ড সিরিজ। শুরুতে ফিটনেস ট্রেনিং। এরপর আস্তে ধীরে স্কিল অনুশীলন। প্রস্তুতি ঠিকঠাকভাবে সারতে নিজেদের মধ্যেও ম্যাচের আয়োজন। সবকিছুই যেন পিকচার পারফেক্ট। প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক নেই। দুর্বলতাগুলো বের করে সেরে নিয়েছে দল। পরীক্ষায় বসার আগে এমনটাই দাবি করেছিলেন অধিনায়ক মিরাজ এবং কোচ সিমন্স।

আরো পড়ুন:

অথচ পরীক্ষায় নেমে সব ওলটপালট। প্রথম পরীক্ষায় বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হতে পারেনি ২৬ রানের জন্য। নিউ জিল্যান্ড যেই কন্ডিশনে মাত্র দুদিনের অনুশীলনে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করতে পারে সেখানে দিনের পর দিন কাটিয়ে বাংলাদেশ কেন ২২১ রানে অলআউট?

সমস্যা কোথায়? জানতে চাইলে সাইফ হাসান বলেন, “উইকেটটা শুরু থেকে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু কিছু ভুল সময়ে আমাদের উইকেটগুলো পড়েছে। আমার উইকেটটা যদি আমি আরেকটু ক্যারি করতে পারতাম। সেট ব্যাটসম্যানের জন্য একটু সহজ ছিল। নতুন ব্যাটসম্যানের জন্য একটু কঠিন ছিল। আমার মনে হয় আমি যদি আরেকটু এগিয়ে নিতে পারতাম তাহলে সহজ হতো। এটাই আমাদের মানিতে নিতে হবে।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ট্রু উইকেটে খেলেছিল। যেখানে পেসার ও স্পিনারদের বোলিংয়ে ভারসাম্য ছিল। প্রথম ওয়ানডেতে তেমন কিছু দেখা যায়নি। বল উঠা-নামা করেছে। কখনো বাড়তি পেস ছিল। আবার কখনো বল স্লোও হয়েছে। ট্রু উইকেটে খেলাকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন সাইফ, “পাকিস্তান উইকেটে তো আপনারা দেখছেন ট্রু উইকেট ছিল। এখানেও উইকেট ভালো ছিল। এমন কোনো একদম খারাপ ছিল না। তবে ট্রু উইকেটে হলে আমরা আরো ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারতাম। একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার কিছু নেই।”

তানজিদ ও নাজমুল শুরুতে হাল ছেড়ে দেওয়ার পর লিটন ও সাইফ ৯৩ রানের জুটি গড়েন। সাইফ ফিফটি তোলার পর বাজে শটে উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশ বিপদে পড়ে। লিটনও দ্রুত আউট হন। এরপর রানের চাকা থেমে যায়। তাওহীদ, আফিফ, মিরাজরা সংগ্রাম করেন ২২ গজে। তাওহীদ শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালালেও তা যথেষ্ট ছিল না।

দলের পরাজয়ের পেছনে দ্রুত উইকেট হারানোকেই দায়ী করছেন সাইফ, “উইকেট সম্পর্কে ধারণা ছিল। তবে একটু বেশিই অসমান হয়েছে। তবে আমার মনে হয় ঐ অজুহাত দিয়ে আসলে বাঁচার কোনো উপায় নেই। আমরা ম্যাচে ছিলাম। অনেক ২৩-২৫ ওভার পর্যন্ত আমরা ম্যাচে ছিলাম। ভুল সময়ে কিছু উইকেট পড়াতে আমরা পিছিয়ে গেছি।”

বাংলাদেশকে বেশি ভুগিয়েছে ডট বল। ৪৮.৩ বলের ইনিংসে ১৬৬ ডট বল খেলেছে বাংলাদেশ। মাঝে বাংলাদেশের ইনিংসে ১১ ওভারে কোনো বাউন্ডারি আসেনি। যা লক্ষ্যর পথে ছুটতে বড় বাধা তৈরি করে। স্ট্রাইক রোটেট এবং বাউন্ডারিতে ঘাটতি থাকায় আসকিং রেট বাড়তেই থাকে। সাইফের চোখের ধরা পড়েছে এসব,“অবশ্যই উন্নতির জায়গা আছে। তবে আমার মনে হয় উইকেটগুলো পড়াতে অনেক প্রভাব পড়েছে। তাওহীদ হৃদয় ছিল। আমাদের একজন ব্যাটসম্যান যদি তাকে সহযোগিতা করতো তাহলে হয়তো ভালো হতো।”

নিউ জিল্যান্ডের মূল সারির ক্রিকেটাররা আইপিএল ও পিএসএল নিয়ে ব্যস্ত। দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সারির খেলোয়াড়রা এসেছেন বাংলাদেশে। প্রতিপক্ষ হিসেবে নিউ জিল্যান্ডকে হালকভাবে নিয়েছে কিনা সেই প্রশ্নও উঠছে। সাইফ সেই প্রশ্নর উত্তরটা আড়ালেই রাখলেন, “না, আমার মনে হয় ব্যাকআপ টিম আসছে নাকি কি আসছে এটা জানি না। নিউ জিল্যান্ডের জাতীয় দল খেলছে এটা আমরা জানি। তারা স্কিলফুল খেলোয়াড় নিশ্চিতভাবেই।”

ঢাকা/ইয়াসিন/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়