ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাবাকে নিয়ে বন্যা মির্জার আবেগঘন বার্তা

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ১৭ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৯:৪৬, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
বাবাকে নিয়ে বন্যা মির্জার আবেগঘন বার্তা

বন্যা মির্জা, মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী

গত ১৫ এপ্রিল বাবাকে হারিয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বন্যা মির্জা। তার বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। প্রিয় বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ একটি বার্তা দিয়েছেন।   

বন্যা মির্জা তার আবেগঘন খোলা চিঠিতে নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। লেখার শুরুতে এ অভিনেত্রী বলেন, “আমার বাপী মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী ১৫ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আমাদের ছেড়ে চলে যান অন‍্য এক অজানা জগতে। সকল সন্তান তার বাবাকে সৎ ও সাহসী ভাবতে পছন্দ করে। কিন্তু আমার বাবা প্রকৃত সৎ ও সাহসী। জীবন নিয়ে তার কোনো অভিযোগ ছিল না। কেবল চাইতেন আমরা তার সামনে থাকি সবসময়। তিনি অনেক বড় পদে কাজ করেছেন তার কর্মজীবনে। কিন্তু আমরা তা কোনোদিন বুঝতে পারিনি। কারণ এই নয় যে, আমরা জানতাম না। কারণ আমাদের জীবন খুব সাধারণ ছিল, এখনো আছে। তিনি তার কর্মময় জীবনে অনেকগুলো মানুষের ভরণপোষণ করেছেন। আমি তার সততার বড়াই করছি না। বরং এটা একটা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখছি বা আমরা তাই দেখি। তবু আজ বলছি, কারণ তিনি আর নেই কোথাও।”

আরো পড়ুন:

বন্যা মির্জাদের কোনো সম্পত্তি নেই। এ তথ্য স্মরণ করার পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তার বাবার নিয়মানুবর্তিতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই, থাকার কথাও না। সেসবে আমাদের প্রয়োজনও নেই। আমার বাবা তার সমস্ত জীবন খুব সাধারণভাবে কাটিয়েছেন। যারা তাকে চেনেন তারা সকলেই জানেন। তার অফিসের সহকর্মীরাও জানতেন। অফিসে কোনোদিন দেরী করে যাননি। অনেক কষ্ট করেছেন, তবু হাসিমুখে থেকেছেন। রিটায়ার এর পরে তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। সেদিনও আমি কাজে ছিলাম। আমরা চারজন, তিন বোন আর এক ভাই, আমরা সবাই কাজের ক্ষেত্রে তার মতোন বা অনেক ক্ষেত্রেই।”

বন্যা মির্জার বাবা বিশেষ বা বিশাল কোনো মানুষ ছিলেন না বলে উল্লেখ করেন। তবে তার বাবা সাধারণ একজন মানুষ ও একজন বাবা ছিলেন। তার ভাষায়—“আমরাও তার মতো খুব সাধারণ এবং আমাদের জীবনও তাই। এইভাবে থাকা আমরা আমার বাবার কাছেই শিখেছি।”

সহকর্মী, সহমর্মিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বন্যা মির্জা বলেন, “আমি যেহেতু মিডিয়াতে কাজ করি বা করেছি তাই কিছু মানুষ আমাকে চেনেন। আমার বাবাকে নিয়ে অনেকে নিউজ করেছেন। যারা নিউজ করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার বাবার জন‍্য আমার সহকর্মীরা পোস্ট দিয়েছেন। সেসব পোস্টে সহকর্মীরা সহমর্মিতা, সমবেদনা জানিয়েছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। অনেক মানুষ আমাকে কল করে সমবেদনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।” 

বন্যা মির্জা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। মৃত্যুর আগের রাতে ভিডিও কলে সবার কাছে ক্ষমা চান তার বাবা। এ অভিনেত্রী বলেন, “আমার বাবা রাতে আমাদের সবাইকে ভিডিও কল করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। পরদিন সকালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।  আমার বাবার জন্য আপনাদের দোয়া প্রার্থনা করি। কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ যদি আমার বাবার কারণে দুঃখ পেয়ে থাকেন তো তাকে ক্ষমাতে রাখবেন এই আশা করি।” 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) জোহর ওয়াক্তে রাজধানীর মনসুরাবাদ জামে মসজিদে মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বন্যা মির্জা বলেন—“যারা পারবেন তারা আসবেন। আমার বাবার জন‍্য দোয়া করবেন।”

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়