সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই মাসে ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক অবিস্মরণীয় অর্জন নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার গত দুই মাস পূর্ণ করেছে। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের রক্তস্নাত অধ্যায় অতিক্রম করে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, “দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ব রাজনীতির জন্যও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অর্জিত নিরঙ্কুশ বিজয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।”
মাহদী আমিন জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের কাছ থেকে যে অকৃত্রিম সহযোগিতা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরো বলেন, “সরকার একটি স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
মাহদী আমিন বলেন, “প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা নিজ নিজ দপ্তরের বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করবেন এবং আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা।”
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বহুমুখী অপপ্রচারে লিপ্ত থাকলেও, সচেতন নাগরিকরা এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।”
তিনি আরো বলেন, “সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তথ্যভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং বিরোধীদল হট্টগোল ও গুজব ছড়ানোর মতো পথ পরিহার করে গঠনমূলক সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে বলেও সরকার প্রত্যাশা করে।”
মাহদী আমিন অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের সঙ্গে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছর বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম এর বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
এই স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অসামান্য অবদানের বৈশ্বিক স্বীকৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।”
মাহদী আমিন বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্পে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “দেশের কৃষক ও কৃষাণিদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজার কৃষককে এর আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।”
মাহদী আমিন বলেন, “সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় স্বল্প সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।”
তিনি আরো বলেন, “সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকার ভর্তুকি ও বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতায় জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।”
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার পবিত্র রমজান মাসসহ সব সময় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং খাদ্যপণ্য আমদানি অব্যাহত রেখেছে।”
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত, অধ্যক্ষ ও যাজকদের সম্মানি প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”
মাহদী আমিন আরো বলেন, “প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং হজযাত্রার খরচ টিকিট প্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। সরকারি শূন্য পদ পূরণে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।”
মাহদী আমিন বলেন, “অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরের লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার পাশাপাশি ইউরোপের ৭টি দেশের সাথে নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, “প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং ভর্তি ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
খেলাধুলা ও বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রতি উপজেলায় ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে।”
রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনা ব্যবহার না করে নিজের বাড়িতে থাকছেন, ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করেছেন এবং মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।”
মাহদী আমিন আরো বলেন, “পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নদী দখল ও দূষণ রোধে আইন সংশোধন এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে সম্পদ শনাক্তকরণ ও আইনগত সহায়তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই মুখপাত্র বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে এনেছেন এবং ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌল্লা সুজনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসের।
ঢাকা/সাইফ
জিলকদ মাস শুরু সোমবার