সুনামগঞ্জ ও রংপুরে বজ্রপাতে ৭ জন নিহত
সুনামগঞ্জ ও রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সুনামগঞ্জ ও রংপুর জেলায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) বজ্রপাতে সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে চারজন ধান কাটার সময় এবং রংপুরে দুইজন মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে মারা যায়।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় দুইজন, তাহিরপুর উপজেলায় একজন, জামালগঞ্জ উপজেলায় একজন ও দিরাই উপজেলায় একজন নিহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলার ঠগার হাওরে কয়েকজন কৃষক ধান কাটছিলেন। এ সময় মেঘে আকাশ কালো হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাত হলে হাওরে ধান কাটা অবস্থায় দুইজন মারা যায়। নিহত হাবিবুর রহমান (২২) উপজেলার বৈরাটি গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে। অপরজন একই উপজেলার স্বরস্বতীপুর গ্রামের রহমত উল্লাহ (৩০)।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বজ্রপাতে মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।
দিরাই উপজেলায় কালিয়াগোটার হাওরের একটি বিলে দুপুরে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) গুরুতর আহত হয়। তিনি উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরে কয়েকজন কৃষক কাজ ধান কাটছিলেন। আকস্মিক বজ্রপাতে মো. নূর জামালের (২২) ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। নূর জামাল উপজেলার গজারিয়া হাটির বাসিন্দা।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘‘আমরা খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।’’
দুপুর ১২টায় তাহিরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে হাঁসের খামারে কাজের সময় একজন মারা গেছে এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)। তিনি সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে।
একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের নূর মোহাম্মদ (২৪)। তিনি জামলাবাজ গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ বজ্রপাতে হতাহতের তথ্য জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘‘আমরা প্রতিটি বজ্রপাতের ঘটনার খোঁজ নিয়েছি। এ সব দুর্ঘটনায় যেহেতু কারো অভিযোগ থাকে না, আমরা লাশ সুরতহাল করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।’’
এদিকে, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে বজ্রপাতে দুইজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, উপজেলার রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মাঝিপাড়ার গ্রামের মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৫৮)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সখীপুর গ্রামের একটি মৎস্য খামারে জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছিল। জেলেরা সেখানে মাছ ধরতে নামে এবং কয়েকজন পাড়ে দাঁড়িয়ে মাছ ধরা দেখছিল। হঠাৎ মেঘে আকাশ কালো করে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। তথন মাছের খামারে বজ্রপাতে কয়েকজন আহত হয়।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় গ্রামবাসী আহতদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মিলন মিয়া ও আবু তালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এম এ হালিম লাভলু জানান, হাসপাতালে আনার আগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ঢাকা/মনোয়ার/আমিরুল/বকুল
সুনামগঞ্জ ও রংপুরে বজ্রপাতে ৭ জন নিহত