ঢাকা     সোমবার   ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৭ ১৪৩৩ || ২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রাণীর আক্রমণে আহত, হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো মানুষ

সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২২:৩০, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রাণীর আক্রমণে আহত, হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো মানুষ

পোষা ও বেওয়ারিশ প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আহত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধী (র‌্যাবিস) ভ্যাকসিন নিতে প্রতিদিনই রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভিড় করছেন হাজারের বেশি মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে টিকার লাইনে দীর্ঘ সারি। কেউ পোষা বিড়ালের আঁচড়ে আহত হয়ে এসেছেন, কেউ কুকুরের কামড়ে, আবার কেউ বেওয়ারিশ প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

গাজীপুর থেকে আসা ৭ বছর বয়সী আয়েশা আক্তার কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছে। তার বাবা খাদেমুল হক জানান, স্কুলে যাওয়ার পথে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয় আয়েশা। স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে ঢাকায় নিয়ে আসতে হয়েছে।

ধানমন্ডির বাসিন্দা মাহিম রহমান জানিয়েছেন, বাসায় পোষা বিড়ালের আঁচড়ে তার হাত রক্তাক্ত হয়ে যায়। তিনি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এসে তিনটি টিকা নিয়েছেন।

হাসপাতালের ভ্যাকসিন কার্যক্রমে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা জানান, আগে অধিকাংশ রোগী কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে এলেও সম্প্রতি বিড়ালের আক্রমণে আহত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

অনেকেই শখ করে বিড়াল পোষেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় টিকা দেন না। ফলে, বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া, রাস্তায় থাকা বিড়াল ধরতে গিয়ে অনেকেই আহত হচ্ছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু বেশি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ রোগী এখানে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কুকুর, বিড়াল, বেজি, বানর ও শিয়ালের আক্রমণে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ জন, ২০২৩ সালে ছিল ৯৪ হাজার ৩৮০ জন এবং ২০২২ সালে ছিল ৮৯ হাজার ৯২৮ জন।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালটিতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে মারা যান ৫৮ জন এবং ২০২৩ সালে ৪২ জন।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও চিকিৎসক ডা. আরিফুল বাশার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে প্রথমেই ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে হবে। পাশাপাশি টিটেনাস ইনজেকশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হবে। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ৩ দিন ও ৭ দিন পর আরো দুটি ডোজ নিতে হয়। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১০ টাকার টিকিটে এসব টিকা দেওয়া হচ্ছে।”

জলাতঙ্ক রোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে এই রোগ ছড়ালেও দেশে কুকুরের কামড়ে এ রোগ বেশি হয়। এখনো অনেক ক্ষেত্রে কুসংস্কারের কারণে মানুষ কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের শরণাপন্ন হন। ফলে, রোগীরা হাসপাতালে আসতে দেরি করেন। তখন চিকিৎসকদের আর কিছু করার থাকে না।” 

ডা. আরিফুল বাশারের পরামর্শ—যেকোনো প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এদিকে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকটের খবর পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ বলেছেন, “কেন্দ্রীয়ভাবে টিকা সরবরাহ আপাতত বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালগুলোকে নিজস্ব বাজেট থেকে টিকা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এ আসমা খান বলেছেন, “বছরের শুরুতে কিছুদিন ভ্যাকসিনের সংকট থাকলেও বর্তমানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে হাসপাতালে টিকার কোনো ঘাটতি নেই। তবে, রোগীর চাপ অনেক বেশি। সেবা নিশ্চিত করতে টিকার বুথ বাড়ানো হয়েছে। ঢাকার বাইরে টিকা না পেয়েও অনেকে এখানে আসছেন। আমরা সবাইকে সেবা দিচ্ছি।”

ঢাকা/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়