ঢাকা     সোমবার   ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৭ ১৪৩৩ || ২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পীরগাছায় হেযবুত তওহীদ সদস্যদের বাড়িতে হামলা: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২২:৪৪, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
পীরগাছায় হেযবুত তওহীদ সদস্যদের বাড়িতে হামলা: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

রংপুরের পীরগাছায় গুজব ছড়িয়ে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব, রংপুরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শামীম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের নাগদহ ছিদাম বাজার এলাকায় তার গ্রামের বাড়িতে একটি পারিবারিক প্রীতিভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে তৌহিদি জনতার ব্যানারে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নূর আলমের নেতৃত্বে মব সৃষ্টি করে এ হামলা চালানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রশাসনের লোকজনদের সামনেই মব সৃষ্টি করে ৮টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে উগ্রবাদীরা। বাড়িতে থাকা ১২টি বিদেশি জাতের গবাদি পশু লুট করা হয় এবং পরিবার ও আগত অতিথিদের ২৩টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। ওই হামলায় অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন। যাদের মধ্যে দুজন পঙ্গু হয়েছেন বলে জানান শামীম।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে এ ঘটনায় মোট ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি টাকার বেশি বলা হয়েছে। 

হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানা ও আদালতে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে থানায় করা একটি মামলায় বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দাখিল করেনি পুলিশ। অন্যদিকে, আদালতে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় তদন্ত সংস্থা সিআইডি ও পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করার পর আদালত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

তবে অভিযোগ করা হয়, পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা গ্রেপ্তার না হয়ে উল্টো আপসের নামে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি, গত ১৮ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বাড়ির তিন থেকে চারশ গজ দূরে নাগদহ চৌরাস্তার মোড়ে অনুমোদনহীন সমাবেশ করে মামলা তুলে নিতে হুমকি ও আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই সমাবেশের বিষয়ে আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পীরগাছা উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিহিত করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করে তাদের সমাবেশে পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। একইসঙ্গে সমাবেশে জনগণের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন জুড়ে হেযবুত তওহীদের নামে মিথ্যাচার করে মধ্যরাত পর্যন্ত মাইকিংয়ের ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

আসামিদের এমন বেপরোয়া আচরণ আর প্রশাসনের নীরবতায় বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংগঠনের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, উল্লেখ করে শামীম বলেছেন, যেকোনো সময় আবারও গুজব ঘটিয়ে হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নতুন করে মব সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আসামিদের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মবের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দায়ের করা মামলার দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার দাবি তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে রংপুরের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয় পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে। 

দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শামীম।

এ সময় হেযবুত তওহীদের রংপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রুবেল, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিলন, বিভাগীয় ছাত্র ফোরামের সভাপতি আবইয়াজ রহমান সাগরসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/আমিরুল/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়