সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আ.লীগ নেত্রী
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সুবর্ণা ঠাকুর।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর। অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় জেলায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এই মনোনয়নকে বিএনপির দেউলিয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নানা মন্তব্য করছেন। সুবর্ণার আওয়ামী লীগে থাকার সময়ের বিভিন্ন ছবি পোস্ট করছেন। সুবর্ণা আদৌও আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন কি-না, বা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন কি-না, সেই প্রশ্ন তুলছেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খানের কাছ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা নিচ্ছেন সুর্বণা ঠাকুর।
আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ নারীকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এর মধ্যে সুবর্ণার নাম রয়েছে। সুবর্ণা মতুয়া সম্প্রদায়ের নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় শিক্ষক।
কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম আছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণার উপস্থিতি দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা ব্যক্ত করে প্রশ্ন করেছেন, ‘‘আমি হতাশ! দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়?’’
টিটো বদ্য নামে আরেকজন অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘‘অফিসিয়ালি সুর্বণা কোনো জায়গায় পদত্যাগ করেননি। আর আওয়ামী লীগের পোস্টধারী নেত্রী কোনো ত্যাগ, শ্রম ছাড়া যদি এমপি বনে যান, তাহলে এটিকে বিএনপির দৈন্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।’’
পৌর বিএনপির সভাপতি হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, ‘‘আমাদের জেলায় অনেক ত্যাগী নেত্রী রয়েছেন কিন্তু তাদের রেখে আওয়ামী লীগের পদে থাকা একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হলো, এটা দুঃখের বিষয়। আশা করি, দল এটি বিবেচনা করবে।’’
তবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন স্থানীয় অনেক নেতা। জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপ্টন বলেন, ‘‘দল যাকে ভালো মনে করেছে, তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে দেখেছেন। আমরা তার সিদ্ধান্ততে স্বাগত জানাই।’’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক বলেন, ‘‘দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা সেটা মেনে নিবো। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যাব না।’’
সুবর্ণা ঠাকুর মুঠোফোনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের কথা স্বীকার করেন। তবে আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে সংযোগ কেটে দেন।
ঢাকা/বাদল/বকুল
২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু ৩, আক্রান্ত ১১৭০