ঢাকা     সোমবার   ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৭ ১৪৩৩ || ৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তপ্ত গরমে টানা চার ঘণ্টা ১৪৫ গতির আগুন, নাহিদের বোলিংয়ে হতবাক নিউ জিল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১১, ২০ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২১:১৫, ২০ এপ্রিল ২০২৬
তপ্ত গরমে টানা চার ঘণ্টা ১৪৫ গতির আগুন, নাহিদের বোলিংয়ে হতবাক নিউ জিল্যান্ড

নাহিদ রানার বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে মিরপুরে নিউ জিল্যান্ডের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে মাথা উচুঁ করে লড়াই করেছেন নিক কেলি। ১৮৭ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে তপ্ত গরমে পুড়ে ১০২ বলে ৮৩ রান করেন তিনি। তার একার লড়াইয়ে নিউ জিল্যান্ড ১৯৮ রান করে। পরে বাংলাদেশ ৮৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অতি সহজেই। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক নাহিদ রানা। ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে কিউই ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দেন।  

ম্যাচ শেষে নাহিদ রানাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে নিক কেলি বলেছেন, ‘‘সে খুবই প্রতিভাবান তরুণ বোলার, ভালো গতিতে বল করে। আজকের পিচটা তার জন্য উপযোগী ছিল। একটু বেশি ঘাস ছিল, সে বল সুইং করিয়েছে, আর গতি ছিল মাঝামাঝি ১৪০ থেকে উচ্চ ১৪০ কিমি/ঘণ্টা। বাংলাদেশ ভালো একজন তরুণ ফাস্ট বোলার পেয়েছে।’’

আরো পড়ুন:

আগের দিন ৬৫ রানে ১ উইকেট নেওয়া নাহিদ আজ কীভাবে সফল হলেন? উত্তর দিতে গিয়ে কিউই ব্যাটসম্যান যোগ করেন, ‘‘আজ সে স্টাম্পে বেশি আক্রমণ করেছে, ভালো সুইং পেয়েছে, আর বাউন্সের ভ্যারিয়েশন ছিল। আগের ম্যাচেও ছিল, কিন্তু আজ গতিটা বেশি ছিল। যেমন উইল ইয়াংয়ের উইকেট। ভালো গতি, কাঁধের কাছে উঠে গেছে। এত গরমে ১৪৫+ গতিতে বল করা সত্যিই দারুণ।’’

বৈশাখের শুরু থেকেই গরম বেশ। আবহাওয়া প্রতিকূল। খেলা শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়। কড়া রোদের তাপে যখন চারপাশ ঝলসে ওঠছিল তখন নাহিদ গতির ঝড় তুলেছেন। তপ্ত বাস্তবতায় তার প্রতিটি বল আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ শিবিরে। কখনো পায়ের ওপরের বল নাড়িয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস। কখনো বুক সমান উচ্চতার বাউন্সার ছন্নছাড়া করে দেয় মনোবল। গতি, সুইং, বাউন্সার দিনে মিলে নাহিদ এক অদম্য জেদ। এই কন্ডিশনেও নাহিদ কীভাবে ১৪৫ প্লাস গতিতে বোলিং করছে তা বিস্ময় জাগিয়েছে কিউই ব‌্যাটসম‌্যানকেও, 

‘‘সে শুরু থেকেই খুব দ্রুত গতিতে এবং নির্ভুলভাবে বল করে। তাই ব্যাটসম্যানদের শুরু থেকেই প্রস্তুত থাকতে হয়। কোনো ওয়ার্ম-আপ নেই, প্রথম বল থেকেই চাপ তৈরি করে। আগের ম্যাচেও সে ভালো বল করেছে, কিন্তু উইকেট পায়নি। আজ পিচ সাহায্য করায় সে সফল হয়েছে। আমি ব্যাটিং করেই ক্লান্ত হয়ে গেছি, আর সে দৌড়ে এসে এত গতিতে বল করছে, অসাধারণ। চার ঘণ্টা রোদে থেকেও সে একই গতি ধরে রেখেছে। সত্যিই প্রশংসনীয়।’’

দুই ম্যাচের পার্থক্য কোথায় ছিল জানাতে গিয়ে নিক কেলি বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয় পিচটাই মূল পার্থক্য। শুরুতে পিচে একটু বেশি ঘাস ছিল, তাই সেট হতে একটু বেশি সময় লেগেছে, আর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা উইকেট হারিয়েছি। তারা খুব ভালো বল করেছে, আর পিচ তাদের একটু সাহায্য করেছে। যখনই আমরা একটা পার্টনারশিপ গড়ছিলাম, তখনই ভুল সময়ে উইকেট হারাচ্ছিলাম। এটাই ছিল আজকের সবচেয়ে বড় পার্থক্য।’’

১৭ রানের জন্য নিজের সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন নিক কেলি। নিজের আউট নিয়ে হতাশা ফুটল তার কণ্ঠে, ‘‘কেউই আউট হতে চায় না। আমি ১০০-এর কাছে ছিলাম। উপমহাদেশে আগে খুব বেশি খেলিনি, গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। প্রতি বলে মনোযোগ দিচ্ছিলাম। হয়তো আরও ৫ ওভার খেলতে পারলে দল ২৪০-এ যেতে পারত। এটা একটা শিক্ষা।’’

ঢাকা/ইয়াসিন

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়