ঢাকা     বুধবার   ২২ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৯ ১৪৩৩ || ৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রামুতে অস্ত্রের মুখে ইউপি সদস্যকে অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৩, ২২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:১৬, ২২ এপ্রিল ২০২৬
রামুতে অস্ত্রের মুখে ইউপি সদস্যকে অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

অপহৃত রুস্তম আলী।

কক্সবাজারের রামুতে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুস্তম আলীকে অপহরণ করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এ সময় সঙ্গে থাকা গাড়ির চালক ও আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে তাদের মারধর শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সকালে রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের পানেরছড়া ঢালা এলাকায় অপহরণ করা হয়। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া অপহরণের তথ্য জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন:

অপহৃত রুস্তম আলী (৪০) ঈদগড় ইউনিয়নের পরানিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। তিনি ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ঈদগাঁও স্টেশন থেকে একটি জিপগাড়িতে করে চালক ও আরেক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন রুস্তম আলী। পথিমধ্যে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় পৌঁছালে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে গাড়িটি থামায়। এরপর গাড়িতে থাকা সবাইকে মারধর করে মোবাইল ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রুস্তম আলীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে চালক ও অপর ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সন্ত্রাসীরা ইউপি সদস্যকে অপহরণ করে গভীর বনাঞ্চলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছে। তাকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

অপহৃতের পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খুরশেদ আলম জানান, ছেড়ে দেওয়া দুই ব্যক্তি এলাকায় ফিরে ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তিনি এবং রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ইউপি সদস্যকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কটি ঘন বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে, যেখানে প্রায়ই ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটে। গত সাড়ে তিন মাসে মসজিদের ইমাম, অটোরিকশাচালক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১২ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। এছাড়া গত এক দশকে এই সড়কে ডাকাতদের গুলিতে পুলিশ সদস্য ও এক শিল্পীসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।

গত ২৩ মার্চ ঈদগড় সড়ক থেকে রাবার বাগানের দুই শ্রমিককে অপহরণ করা হয়। পরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

ঢাকা/তারেকুর/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়