ঢাকা     মঙ্গলবার   ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৮ ১৪৩৩ || ৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মোরিনহো কি ফের রিয়ালে? অভিজ্ঞতার টান, নাকি পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি!

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ২১ এপ্রিল ২০২৬  
মোরিনহো কি ফের রিয়ালে? অভিজ্ঞতার টান, নাকি পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি!

আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন হোসে মোরিনহো। পর্তুগালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এখন তিনি বেশ জোরালোভাবেই জায়গা করে নিয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে- এটি কি সঠিক সিদ্ধান্ত হবে, নাকি ক্লাবের জন্য একধাপ পিছিয়ে যাওয়া?

বর্তমান পরিস্থিতি রিয়ালের জন্য মোটেই সুখকর নয়। লা লিগার শিরোপা দৌড়ে তারা বার্সেলোনার থেকে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। ফলে কোচ আলভারো আরবেলোয়ার বিদায় এখন প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।

আরো পড়ুন:

কোচ খোঁজার ক্ষেত্রে এবার রিয়াল ভিন্ন প্রোফাইলের দিকে নজর দিচ্ছে। গতবার কার্লো আনচেলত্তি বিদায়ের পর তারা তরুণ ও আধুনিক ধারার কোচ হিসেবে জাবি আলোনসোকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৮ মাসেই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এবার তাদের লক্ষ্য- এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ, যিনি চাপ সামলাতে পারবেন এবং তরুণ দলকে গড়ে তুলতে পারবেন। এই জায়গাতেই মোরিনহোর নাম সামনে আসছে।

২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রিয়ালের দায়িত্বে থাকা মোরিনহো সেই সময় কোপা দেল রে ও লা লিগা জিতিয়েছিলেন। ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে তার সম্পর্কও এখনও ভালো। তাই স্বাভাবিকভাবেই তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে তিনি বেনফিকার কোচ, তবে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ক্লাব প্রেসিডেন্ট রুই কস্তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। মোরিনহো চান নতুন তরুণ দল গড়তে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি। কিন্তু ক্লাব তাতে পুরোপুরি রাজি নয়। ফলে মৌসুম শেষে বিচ্ছেদের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে যদি বেনফিকা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়।

স্পেনের গণমাধ্যম জানাচ্ছে, রিয়াল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মোরিনহোর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তবে বেনফিকায় নিজের মতো প্রকল্প না পেলে তিনি মাদ্রিদে ফিরতে আগ্রহী।

তবে প্রশ্ন হলো- মোরিনহো কি আদৌ রিয়ালের জন্য উপযুক্ত? তার অভিজ্ঞতা ও জয়ের মানসিকতা নিয়ে সন্দেহ নেই। বড় মঞ্চে তিনি সবসময়ই স্বচ্ছন্দ। কিন্তু তার কোচিং স্টাইল অনেকটাই আলাদা। আনচেলত্তি যেখানে শান্ত ও সম্মাননির্ভর নেতৃত্বে দল চালাতেন, মোরিনহো সেখানে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে খেলোয়াড়দের থেকে সেরাটা বের করে আনেন। যা কখনো কাজ করে, কখনো করে না।

আরেকটি বড় প্রশ্ন ফুটবল দর্শনের। আধুনিক ফুটবল এখন বল দখল ও আক্রমণাত্মক কৌশলের দিকে ঝুঁকছে। সেখানে মোরিনহোর দলগুলো তুলনামূলকভাবে রক্ষণাত্মক ও বাস্তববাদী। উদাহরণ হিসেবে তার বেনফিকা দল এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বল দখলে ছিল মাত্র ৪৫.২ শতাংশ, যেখানে শীর্ষ দলগুলো- পিএসজি, বার্সেলোনা, বায়ার্ন; সবাই ৫৮ থেকে ৬৩ শতাংশের মধ্যে।

এই প্রেক্ষাপটে অনেকের মতে, জার্গেন ক্লপ রিয়ালের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারতেন। কিন্তু তিনি আপাতত উচ্চচাপের কোচিংয়ে ফিরতে আগ্রহী নন। ফলে অন্য বিকল্প হিসেবে মৌরিসিও পচেত্তিনো, আন্দোনি ইরাওলা বা জুলিয়ান নাগেলসমানের নামও ঘুরছে। যারা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে বেশি মানানসই।

সব মিলিয়ে, মোরিনহোর প্রত্যাবর্তন হলে সেটি নিঃসন্দেহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকাদের সঙ্গে তার কাজ করার দৃশ্যও হবে আকর্ষণীয়। তবে একই সঙ্গে এটি হতে পারে এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে পিছিয়ে দিতে পারে। যেখানে রিয়ালের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এগিয়ে যাওয়ার। 

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়