ওয়ালটনে অ্যানিম্যাল রেসকিউ বিষয়ক কর্মশালা
রাইজিংবিডি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: ওয়ালটন
ওয়ালটনে অ্যানিম্যাল রেসকিউ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওয়ালটনের অ্যানভায়রনমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড সেফটি (ইএইচএস) বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মশালায় ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞ টিম প্রশিক্ষণ দেয়।
কর্মশালায় অ্যানিম্যাল রেসকিউ, সেফ হ্যান্ডলিং, বিভিন্ন প্রাণীর পরিচিতি, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং সেফ রিলিজ বিষয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপদভাবে রেসকিউ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়, তা অংশগ্রহণকারীদের দেখানো হয়। এতে কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাস্তব দক্ষতা উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ওয়ালটনের প্রাঙ্গণে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতা থেকে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, “পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়, যা মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।”
অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেপুটি সেলিম রাজা রাসেল জানান, এই প্রশিক্ষণ কর্মীদের বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরো সক্ষম করে তোলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
ইএইচএস বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান রাজু বলেন, “আমাদের কারখানা এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে। আমরা এই বিষয়টিকে শুধু একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না বরং একটি দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করি। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা একটি বিশেষায়িত রেসকিউ টিম গঠন করেছি, যারা নিয়মিতভাবে অ্যানিম্যাল রেসকিউ ও সেফ রিলিজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”
তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা কর্মীদের শুধু দক্ষ করে তুলছি না, বরং তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি সচেতনতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধও বৃদ্ধি করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো—কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো প্রাণীর যেন অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি না হয় এবং একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।”
ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, “প্রাণী সংরক্ষণ মানেই পরিবেশ সংরক্ষণ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে তা দেশের সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশের প্রথম নারী সাপ উদ্ধারকর্মী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, “সচেতনতা ও সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভয় নয়, বরং নিরাপদভাবে প্রাণী রেসকিউ করা সম্ভব। ওয়ালটনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং অনুসরণযোগ্য।”
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিবেশ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যা টেকসই শিল্পায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা/সাইফ
ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করতে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প