ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির কাজ চলমান: বিএসইসি চেয়ারম্যান
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
শেয়ারবাজারের নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তিনি জানান, পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিকে গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্কে আনা এবং ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে ‘ইস্যুয়ার কোম্পানির আইপিও তহবিলের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ বা বিনিয়োগের ব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনা সভা তিনি এ সব কথা বলেন।
এ সময় বিএসইসি’র কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, মো. সাইফুদ্দিন এবং পুঁজিবাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ইস্যুয়ার কোম্পানীর ঋণ পরিশোধ ও বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেছেন, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং প্রাণবন্ত ও গতিশীলতা আনতে কমিশন কাজ করছে। বাজারের নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করতে বিএসইসি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্যবান মতামত ও প্রস্তাবনার জন্য ধন্যবাদ। অংশীজনদের মতামত ও প্রস্তাবনা বিএসইসি মূল্যায়ন করে দেখবে। তবে বিএসইসির অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। বিএসইসি পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেই কাজ করবে।
তিনি পুঁজিবাজারের প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করার উপর জোর দেন। পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিকে গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্কে আনা এবং ভালো ও মৌলভিত্তি কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
সভায় নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের অধীনে আইপিও আবেদন, লিস্টিং এবং আইপিও’র অর্থের ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় অংশীজনদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সভায় পুনঃতফসিলকৃত ঋণ যা নিয়মিত রয়েছে, সেটিকেও আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও সভায় বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন, পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, পুঁজিবাজারের সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারের আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা নেই, যেমনটা আমাদের পুঁজিবাজারে রয়েছে। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনা করে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।’’
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) চেয়ারম্যান ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেছেন, ‘‘যে উদ্দেশ্যে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার করা হবে তা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি-না এবং সত্যিকার অর্থে কোম্পানি বা প্রজেক্টের জন্য লাভজনক হচ্ছে কি-না; তা বিবেচনায় আনা উচিত। দেশের অনেক বৃহৎ ও স্বনামধন্য গ্রুপেরও অনেক উচ্চাভিলাসী প্রজেক্ট রয়েছে, শুধু গ্রুপের সুনাম বিবেচনায় নিয়ে এমন উচ্চাভিলাসী প্রজেক্টের ঋণ পরিশোধে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার যথাযথ হবে না।’’
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেছেন, ‘‘গ্লোবাল মার্কেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী ও উন্নত ক্যাপিটাল মার্কেট (পুঁজিবাজার) সত্যিই কার্যকর সমাধান।’’ তিনি বাংলাদেশেও পুঁজিবাজারের যথাযথ উন্নয়ন ও বিকাশ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেছেন, ‘‘উৎপাদনশীল বা সম্প্রসারণের কাজের জন্য নেওয়া ঋণকে আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিশোধ করে ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং করার সুযোগ থাকা উচিত। দেশের অর্থনীতি এবং নানা সংকট বিবেচনায় দুই এর অধিক বার পুনঃতফসিলকৃত নয় এমন ঋণকেও বিভিন্ন ‘কন্ট্রোল মেকানিজম’ বহাল রেখে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।’’
সভায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএল) প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেছেন, ‘‘ভালো কোম্পানিও বৈশ্বিক নানা সংকট ও সমস্যার কারণে লসে থাকতে পারে এবং তারও পুনঃতফসিলকৃত ঋণ থাকতে পারে। কিন্তু সংকটের সময় তার এ ধরণের ঋণগুলোকে আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিশোধ করতে পারা উচিত। শুধু আইডিয়াল সিচুয়েশন বিবেচনায় কঠোর নীতি অনুসরণ করলেই হবে না; পরিস্থিতি বিবেচনায় নমনীয়ও হওয়া প্রয়োজন।’’
অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক সংকট বিবেচনায় পুনঃতফসিলকৃত ঋণকেও আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিশোধের সুযোগ প্রদানের দাবি জানান তিনি।
সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘কোম্পানির জন্য বেনিফিশিয়াল হলে আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে শুধু ডিসক্লোজার বা কমপ্লায়েন্স বেজড না থেকে যাচাইবাছাই করে কাজ করতে হবে।’’
মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট কামরান তানভিরুর রহমান, ‘‘দেশে শর্ট টার্ম ডিপোজিট দিয়ে লং টার্মের অর্থায়ন করা হচ্ছে। এটি নিরুৎসাহিত করে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে পলিসি ও রুলস এ সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।’’
সভায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান মজুমদার, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ইফতেখার আলম, সেক্রেটারি জেনারেল সুমিত পোদ্দার, ট্রেজারার সৈয়দ রাশেদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো: মোমিনুল হক, ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাফিজ আল তারেক, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহেল হক, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালকেরা, পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/এনটি/বকুল
তৃতীয় ওয়ানডে: নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ