অ্যাব নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার ঘোষণা
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) ও অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাব।
রবিবার (৭ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার জানান, সম্প্রতি অ্যাবের সদস্য সচিবসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কেআইবি তহবিল থেকে ভয় দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা আদায়ের ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কেআইবি ভবনের অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদদের তত্ত্বাবধানে কাজ শেষ হয়। পরে বকেয়া বিল পরিশোধের অংশ হিসেবেই ওই অর্থ সম্পূর্ণ বৈধ ও অনুমোদিত উপায়ে ঠিকাদার ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। এখানে কোনো জবরদস্তি বা অনৈতিক লেনদেন হয়নি।
অ্যাবের সদস্যসচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন, “একটি চক্র কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকারকে চাপ দিয়ে একটি ভিডিও বক্তব্য নেয়। পরে সেই ভিডিওর কাটপিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। পরে দিলিপ কুমার সরকার নিজেই অন্য ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেছেন, তাকে কোনো ভয় দেখানো হয়নি। ওই অর্থ কেআইবি ভবনের সংস্কার কাজের বকেয়া বিল হিসেবেই পরিশোধ করা হয়েছিল।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দিলিপ কুমার সরকার বলেন, “আমার ভিডিওর কাটপিস ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমি আইন মেনেই সব কাজ করেছি।”
ভুল বোঝাবুঝির নিষ্পত্তি আগেই হয়েছে
অ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার বলেন, “বিষয়টি সামনে আসার পর প্রবীণ কৃষিবিদদের উদ্যোগে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। নথিপত্র দেখে স্পষ্ট হয়, পুরো বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি ও তথ্যের অপব্যাখ্যা। তখনই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। কিন্তু, দীর্ঘদিন পর সেই মীমাংসিত ঘটনাকে নতুন করে সামনে এনে জলঘোলা করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপপ্রচার কৃষিবিদ সমাজ, কেআইবি এবং অ্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।”
ড. কায়সার বলেন, “বর্তমানে অ্যাবের ৬ জনের কমিটি আছে। এর মধ্যে একজন ভিন্ন পথে চলছেন। তিনি অ্যাবকে বিতর্কিত করতে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে শিগগির বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। অসত্য তথ্য প্রচারের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাব সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম শফিক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—অ্যাবের সদস্য শাহাদত হোসেন চঞ্চল, অধ্যাপক ড. জামশেদ আলম, নুরুন্নবী শ্যামল এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সরকার।
ঢাকা/এএএম/রফিক