ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১০ ১৪৩৩ || ৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বৈশাখে নতুন মাত্রা ‘টেল অব হিলশা’, নদীজীবন ও সংগ্রামের আখ্যান

সাজ্জাদুর রহমান, বেরোবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ২৩ এপ্রিল ২০২৬  
বৈশাখে নতুন মাত্রা ‘টেল অব হিলশা’, নদীজীবন ও সংগ্রামের আখ্যান

ছবিতে জান্নাতুল মাওয়া জ্যোতি

‘টেল অব হিলশা এন্ড এ বয়’ গ্রন্থে বৈশাখ, ইলিশ আর জীবনসংগ্রামের গল্প একসূত্রে গাঁথা হয়েছে, যেখানে পরিবেশ, সংস্কৃতি ও বিয়োগান্ত বাস্তবতা একসঙ্গে ধরা দিয়েছে।

বইটি নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে বৈশাখের প্রসঙ্গ অনিবার্য। বাংলা নববর্ষের সূচনায় বৈশাখ প্রকৃতি ও সংস্কৃতিতে নিয়ে আসে নতুন রূপ। এই মাসটি বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। পান্তা-ইলিশ বৈশাখের একটি প্রতীকী খাবার হলেও তা সবার নাগালে থাকে না; তবু মানুষ সাধ্যমতো তরমুজসহ নানা খাদ্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপন করে।

আরো পড়ুন:

এই বৈশাখেই কবি, লেখক ও গবেষক মো. হাবিবুর রহমানের ‘টেল অব হিলশা অ্যান্ড অ্যা বয় প্রকাশিত হয়েছে, যা ইলিশ ও বৈশাখকে ঘিরে গল্প বলার ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলা সাহিত্যে বৈশাখ ও প্রকৃতি নিয়ে বহু রচনা রয়েছে। যেমন কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় নবজাগরণের আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। একইভাবে ইলিশকে ঘিরেও সাহিত্যিকদের আগ্রহ কম নয়। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ইলিশের সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন তাঁর কবিতায়। একসময় সহজলভ্য হলেও বর্তমানে ইলিশের দাম অনেক বেড়েছে—এই বাস্তবতাও আলোচনায় উঠে আসে।

‘টেল অব হিলশা এন্ড এ বয়’ উপন্যাসে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদী মেঘনার একটি দ্বীপে বসবাসরত একটি পরিবারের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন, রোমাঞ্চ এবং বিয়োগান্ত অভিজ্ঞতা চিত্রায়িত হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মুসতাকিম খালেদ—এক পরিশ্রমী কিশোর, যে অল্প বয়সেই পিতৃহারা হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি মাছ ধরা ও পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় সে। যেখানে অনেকেই পরিবার থেকে সহায়তা পায়, সেখানে খালেদ নিজেই পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে।

খালেদের মা আয়েশা আমিরা এবং তার শিক্ষকরা তাকে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। উপন্যাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, জ্ঞানচর্চা ও বিতর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সালাউদ্দিন চরিত্রটি গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। খালেদের প্রাণীপ্রেম, পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মানুষের আচরণের প্রভাবও বইটিতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

পরিবেশ ও প্রাণীসম্পদের প্রতি মানুষের দায়িত্ব, নদীভিত্তিক জীবনের বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের জলসম্পদের সংকট, এসব বিষয় উপন্যাসজুড়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বইটি পাঠকের মনে নদী ও পরিবেশ নিয়ে নতুনভাবে ভাবনার জন্ম দিতে পারে। গ্রন্থটিতে ফুল-মালার নকশায় ছাপানো কিছু চিত্রও সংযোজিত হয়েছে, যা পাঠকের কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে এবং শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য বার্তাবহ হয়ে ওঠে।

মো. হাবিবুর রহমানের এ বইটি দ্য রিজিওনাল রিপোর্টিং সোসাইটি (টিআরআরএস) থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদক ফররুফ খসরু। দেশের বিভিন্ন গ্রন্থাগার, বইয়ের দোকান, রকমারি ও আমাজনে এটি পাওয়া যাচ্ছে। বইটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ইলিশ, নদী ও পরিবেশভিত্তিক জ্ঞানচর্চা প্রসারে সহায়ক হতে পারে—এমন মতও উঠে এসেছে।

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়