ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১০ ১৪৩৩ || ৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রতীক্ষার পথ পেরিয়ে পূর্ণতার হাসি

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৭, ২৩ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:৪৮, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রতীক্ষার পথ পেরিয়ে পূর্ণতার হাসি

সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের উল্লাস (ছবি: রেজাউল করিম)

অপেক্ষার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যখন কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি ধরা দেয়, আনন্দ তখন দ্বিগুণ হয়ে হৃদয় ভরিয়ে তোলে। প্রতিটি ধৈর্যের মুহূর্ত পায় সার্থকতা, আর সেই প্রাপ্তি হয়ে ওঠে আরও মূল্যবান, আরও স্মরণীয়।

নাজমুল হোসেন শান্ত আর মোস্তাফিজুর রহমান, সাগরপাড়ের স্টেডিয়াম তাদের জন্য এনে দিল তেমনই এক দিন। যেখানে মিশে আছে অপেক্ষার অবসান, প্রাপ্তির আনন্দ। সব মিলিয়ে পূর্ণতার স্বাদ।

আরো পড়ুন:

বৈশাখের তাপে, অগণিত ঘামবিন্দু ঝরিয়ে নাজমুল তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামেই ২০ ইনিংস আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষবার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন তিনি। দুই বছর পর ঘুচল সেই অপেক্ষা। অন্যদিকে মোস্তাফিজুরের প্রাপ্তি আরও দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফসল। ২০১৯ বিশ্বকাপে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটের সাত বছর পর আবার ফাইফারের দেখা পেলেন তিনি।

দুজনের এই সাফল্যে ঘুচল বাংলাদেশেরও এক দীর্ঘ অপেক্ষা। ২০১৫ সালের পর তিন ম‌্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়ার পর কোনো সিরিজ জিততে পারেনি দল। সাগরিকায় সেই অচলায়তন ভাঙল দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। নাজমুলের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। পরে মোস্তাফিজুরের কাটারে এলোমেলো হয়ে নিউ জিল্যান্ড থামে ২১০ রানে। ৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ড-টানা তিন সিরিজ জয়ে অধিনায়ক মিরাজ হয়ে উঠেছেন উজ্জ্বল।

দিনের শুরুটা যার হাত দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রচণ্ড বাজভাবে, তার দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে শেষটা হয়েছে চোখ ধাঁধানো। সাইফ হাসান দিনের দ্বিতীয় বলে আউট হন। তবে শেষ মুহূর্তে তিনিই হয়ে ওঠেন জয়ের আনসাং হিরো। মিরাজের বলে ফক্সক্রফটের ক্যাচ নিতে বাউন্ডারি থেকে দৌড়ে ওয়াইড লং অনে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। সেই ক্যাচেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের সিরিজ জয়।

১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করে ম‌্যাচ সেরা নাজমুল। সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে নাহিদ রানা সিরিজ সেরা।

প্রথম দুই ম‌্যাচের মতো এবারও টস অতিথি অধিনায়ক টম লাথামের ভাগ‌্যে। তবে এবার ব‌্যাটিং নিলেন না। বাংলাদেশকে ব‌্যাটিংয়ে পাঠালেন। সিদ্ধান্তটা যে যৌক্তিক ছিল তা পেসার ও’রুর্ক দারুণভাবে বুঝিয়ে দেন। তার তোপে সাইফ হাসান (০), তানজিদ হাসান (১) ও সৌম‌্য সরকার (১৮) দ্রুত সাজঘরে। শুরুতেই ধ্বংস্তুপে পড়া বাংলাদেশকে উদ্ধারে নেমে পড়েন নাজমুল ও লিটন। তারা সফলও হন।  

দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজন ১৭৮ বলে ১৬০ রান করেন। তাতে দারুণ প্রত্যাবর্তন হয় বাংলাদেশের। সেঞ্চুরির ফুল ফোটান শান্ত। লিটনও সেই পথেই ছিলেন। কিন্তু ভুল শটে হারান নিজের উইকেট।

বড় কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন দুজনই। তেমন রানে ছিলেন না। আগের ম্যাচে ১৩ ইনিংসের ইনিংসের অপেক্ষা দূর করেন নাজমুল। আজ টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন ৭০ বলে। লিটনও অপেক্ষায় ছিলেন এই মাইলফলকের। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর লিটনের কোনো ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস ছিল না। ১৯ ইনিংস পর লিটন আজ ফিফটি তুলে নেন ৭১ বলে। মনে হচ্ছিল তার ব‌্যাটেও সেঞ্চুরি আঁকা হবে। 

৩৮তম ওভারে ও’রুর্ককে মাথার ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা মারার পর ডানহাতি ব্যাটসম্যান উইকেট বিলিয়ে আসেন বাঁহাতি স্পিনার লেনক্সের বলে। উইকেট থেকে সরে ইনসাইড আউট শট খেলতে গিয়ে বল মিস করে বোল্ড হন লিটন। ৯১ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রানে থেমে যায় তার ইনিংস।

সঙ্গী হারালেও নাজমুল তার মনোবলে চিড় ধরতে দেননি। ২০ ইনিংস আগে চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। লম্বা অপেক্ষার পর আবার তার ব্যাটে রাঙানো হলো তিন অঙ্কের ইনিংস। লেনক্সের বলে সীমানায় ক্যাচ দেওয়ার আগে ১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। প্রতীক্ষার পর সেঞ্চুরি উদযাপনে ছিলেন শান্ত। ব‌্যাট দিয়ে ড্রেসিংরুমে চুুমু ছুঁড়েছিলেন। সৃষ্টিকর্তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে করেছিলেন সিজদাহ। 

শেষ দিকে বাংলাদেশের ভরসা হয়ে ছিলেন মিরাজ ও তাওহীদ। মিরাজ ১৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২২ ও তাওহীদ ২৯ বলে ৩৩ রান করেন ২ চার ও ১ ছক্কায়। তাতে বাংলাদেশ লড়াই করার পুঁজি পায়। 

দুই ম্যাচ সাইড বেঞ্চে বসে থাকার পর মোস্তাফিজুর এই ম‌্যাচে একাদশে ফেরেন তাসকিনের জায়গায়। বল হাতে শুরু থেকেই তিনি ছিলেন ধ্রুপদী। ওপেনার হেনরি নিকোলসকে শর্ট বলে বিভ্রান্ত করে লিটনের তালুবন্দি করেন চতুর্থ ওভারে। এরপর দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে বাংলাদেশের জন‌্য ভয়ংকর হয়ে উঠা ও ফিফটি পাওয়া নিক কেলিকে কাভারে তালুবন্দি করান। শেষ দিকে নাথান স্মিথ, জায়ডেন লেনক্স ও ও’ রুর্ককে ফিরিয়ে ফাইফারের স্বাদ পেয়ে যান নিজের সপ্তম ওভারেই। ওয়ানডেতে তার ষষ্ঠ ৫ উইকেট শিকার। 

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে মোস্তাফিজুর থিতু হতে দেননি ব‌্যাটসম‌্যানদের। তাতে বাকিদের কাজটাও সহজ হয়েছে। নাহিদ রানা নিজের গতি ধরে রেখেছেন আজও। ১০ ওভারে ১ মেডেনে ৩৭ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। শরিফুল ছিলেন আরও দারুণ। ৭ ওভারে ১৯ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন। 

রিশাদের পরিবর্তে একাদশে ফেরা তানভীর ১০ ওভারে ৭০ রান দিয়েছেন। মিরাজ অধিনায়ক লাথামের উইকেটের পর ফক্সক্রফটের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে দিয়েছেন স্বত্বি। শেষ দিকে ফক্সক্রফট বাংলাদেশের জয়কে বিলম্বিত করেছেন। ৭২ বলে ৭৫ রান করেন ৭ ছক্কায়। তাকে থামিয়ে বাংলাদেশ পেয়ে যায় পূর্ণতার স্বাদ, সিরিজ জয়।

ঢাকা/ইয়াসিন

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়