ধ্বংসস্তূপে সেঞ্চুরির ফুল শান্তর, লিটনের ঘাম ঝরানো ফিফটি
ছবি: রেজাউল করিম
পূবের সূর্য চট্টগ্রামে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয়নি। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার যেভাবে ও’রুর্ককে খেলতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে তাতে বাংলাদেশকে নিয়ে ‘বাজি’ ধরার মতো কাউকে পাওয়া যাওয়ার কথা না। অথচ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ। নিউ জিল্যান্ডের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে নিয়ে আশা ছিল অনেক বড়।
সেই লড়াইয়ে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান ৩২ রানে সাজঘরে। সাইফ হাসান শূন্য। তানজিদ ১ ও সৌম্য ১৮ রানে আউট। সেখান থেকে শুরু হয় বাংলাদেশের দারুণ প্রত্যাবর্তন। লড়াই শুরু হয় লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর। শুরুতে পরিস্থিতি মানিয়ে নেন তারা। থিতু হতে সময় নেওয়ার পর আস্তে আস্তে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
চট্টগ্রামে প্রচন্ড গরম। প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সমুদ্রের কোল ঘেঁষে মাঠ তাই বাতাসও প্রচুর। কিন্তু তপ্ত সেই বাতাস শরীরে বাড়তি তাপ ধরিয়ে দেয়। ২২ গজে তাই টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়। নিউ জিল্যান্ডের সাঁরাশি আক্রমণের সঙ্গে বৈশাখের দহনের লড়াইয়ে জিতে যান শান্ত ও লিটন।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজন ১৭৮ বলে ১৬০ রান করেন। তাতে দারুণ প্রত্যাবর্তন হয় বাংলাদেশের। ধ্বংসস্তূপে সেঞ্চুরির ফুল ফোটান শান্ত। লিটনও সেই পথেই ছিলেন। কিন্তু ভুল শটে হারান নিজের উইকেট।
বড় কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন দুজনই। তেমন রানে ছিলেন না। আগের ম্যাচে ১৩ ইনিংসের ইনিংসের অপেক্ষা দূর করেন নাজমুল। আজ টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন ৭০ বলে। লিটনও অপেক্ষায় ছিলেন এই মাইলফলকের। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর লিটনের কোনো ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস ছিল না। ১৯ ইনিংস পর লিটন আজ ফিফটি তুলে নেন ৭১ বলে।
মাইলফলক পৌঁছার পর বল যখন একটু পুরোনো হতে শুরু করে তখনই আক্রমণে যেতে থাকেন দুজন। চার-ছক্কায় দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ছিলেন। কখনো বাড়তি ঝুঁকি নিয়েছেন। তাতে সফলও হয়েছে। আবার ব্যর্থও হয়েছে। লিটনই যেমন ব্যর্থ হয়েছেন।
৩৮তম ওভারে ও’রুর্ককে মাথার ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা মারার পর ডানহাতি ব্যাটসম্যান উইকেট বিলিয়ে আসেন বাঁহাতি স্পিনার লেনক্সের বলে। উইকেট থেকে সরে ইনসাইড আউট শট খেলতে গিয়ে বল মিস করে বোল্ড হন লিটন। ৯১ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রানে থেমে যায় তার ইনিংস।
সঙ্গী হারালেও নাজমুল তার মনোবলে চিড় ধরতে দেননি। ২০ ইনিংস আগে চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। লম্বা অপেক্ষার পর আবার তার ব্যাটে রাঙানো হলো তিন অঙ্কের ইনিংস। লেনক্সের বলে সীমানায় ক্যাচ দেওয়ার আগে ১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করেন এই ব্যাটসম্যান।
শেষ দিকে বাংলাদেশের ভরসা হয়ে ছিলেন মিরাজ ও তাওহীদ। মিরাজ ১৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২২ ও তাওহীদ ২৯ বলে ৩৩ রান করেন ২ চার ও ১ ছক্কায়। তাতে বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের পুঁজি পায়। সিরিজ জয়ের জন্য এই পুঁজি কী যথেষ্ট হবে?
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল