আইন লঙ্ঘন করায় লংকাবাংলা সিকিউরিটিজকে সতর্ক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত অন্যতম শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজ লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসিকে সতর্ক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে সিকিউরিটিজ আইন যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ সংশ্লিষ্ট আইন পরিপালনে অনিয়মের অভিযোগে পূর্বে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশের পর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানির পর কমিশন প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে আংশিক সম্মতি প্রদর্শনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত আইন ও মার্জিন রুলস ১৯৯৯-এর বিধি ৩(২) লঙ্ঘনের দায়ে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজকে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই কারণ দর্শানো ও শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের ৪ আগস্ট কমিশনের শুনানিতে উপস্থিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং কিছু নথিপত্র দাখিল করে। শুনানিতে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের পক্ষ থেকে দাখিল করা নথিপত্র এবং জবাব পর্যালোচনা করে কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইন লঙ্ঘনের মাত্রা বিবেচনায় তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। তবে কমিশন জনস্বার্থে এবং পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলার কথা চিন্তা করে বড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে সতর্ক হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হলো। মার্জিন রুলস এবং কমিশনের বিভিন্ন ডিরেক্টিভ (নির্দেশনা) পালনে লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজকে আরো যত্নশীল হতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরণের কোনো বিচ্যুতি বা আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ধরা পড়লে কমিশন কঠোর এনফোর্সমেন্ট ব্যবস্থা নেবে।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, কমিশনের এই নিষ্পত্তির ফলে লংকাকাবাংলা সিকিউরিটিজ তাদের সাধারণ গ্রাহক বা অন্য কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের প্রতি আইনগত দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে না। যদি প্রতিষ্ঠানটির কোনো অনিয়মের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ তার দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
তবে বিএসইসি জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কোনো আইনগত দায়মুক্তি প্রদান করা হয়নি। ভবিষ্যতে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ঘটনা ঘটলে কঠোর প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ ডিএসইর ১৩২ নম্বর ও সিএসইর ৯১ নম্বর ব্রোকারেজ হাউজ বা ট্রেকহোল্ডার হিসেবে শেয়ারবাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
ঢাকা/এনটি/বকুল
বাস ভাড়া বাড়ল কিলোমিটারে ১১ পয়সা