ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্র সচিবসহ ১১ শিক্ষককে অব্যাহতি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই ২০২৫ সালের প্রশ্নে ২০২৬ সালের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ কাণ্ড ঘটে। শিক্ষকদের খামখেয়ালিপনায় অনিশ্চয়তায় পড়েন প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ ১১ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে হয়েছে বিভাগীয় মামলা।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু, পরীক্ষার আমেজ বিষাদে রূপ নিতে বেশি সময় লাগেনি। যখন পরীক্ষা প্রায় মাঝামাঝি, তখন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা বুঝতে পারেন যে, নিয়মিত ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র।
ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার এমন ঘটনায় কেন্দ্রে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। খবর পেয়ে দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত। তার হস্তক্ষেপে দীর্ঘ ২ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা শুরু করা হয়। এই দীর্ঘ সময়ের মানসিক ধকল আর সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করে উপজেলা প্রশাসন।
শিক্ষকদের এমন ভয়াবহ অবহেলার বিষয়টি আমলে নিয়ে কঠোর অবস্থানে যায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বুধবার (২২) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এক আদেশে ওই কেন্দ্রের ১১ জন কক্ষ পর্যবেক্ষককে এসএসসি পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
একই আদেশে ঘটনার মূল দায়ভার যার ওপর, সেই কেন্দ্র সচিব আব্দুল মতিন সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, শিক্ষকদের এমন খামখেয়ালিপনায় পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
সোনারগাঁও উপজেলা, নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের বলেছেন, “আমরা ঘটনা শোনার সাথে সাথেই কেন্দ্রে যাই। কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সময় বাড়ানো হয়েছিল, যাতে তাদের কোনো ক্ষতি না হয়। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা মানসিক অস্থিরতা তৈরি হলেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে শান্ত হয় পরিস্থিতি। তবে, শিক্ষকদের এমন খামখেয়ালিপনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
ঢাকা/অনিক/রফিক