ভুল পশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ, জানে না উপজেলা প্রশাসন
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় শর্ষিনাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দাখিল আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা ভুল প্রশ্নপত্রে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্টরা। ফলে, পরীক্ষা গ্রহণের পর ১০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জানেন না উপজেলা প্রশাসন।
পরীক্ষায় ২০২৫ সালের সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করায় অন্তত ১২ অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ কেন্দ্রে মোট ৫৯৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩১ জন আংশিক ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষার শুরু হওয়ার সোয়া ২ ঘণ্টা পর কয়েকজন ছাত্র বুঝতে পারে যে, ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ, তারা পুরাতন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী।
১২ জন পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে কেন্দ্রের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষার্থীদের খাতা পরিবর্তন করে আবারও পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্ন দিয়ে বাকি সময় পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেছেন, “মাত্র ৪০ মিনিট পরীক্ষা দিয়ে আমাদের পক্ষে ভালো ফল করা সম্ভব নয়। আমরা আবারও ফেল করব। আমাদের আর লেখাপড়া করা হবে না।”
শর্ষিনাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের হল সুপার মো. এমদাদুল হক বলেছেন, “সবকিছু কেন্দ্র সচিব জানেন। ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।”
এ বিষয়ে শর্ষিনাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের সচিব ও প্রিন্সিপাল সাঈদর রহমান বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদের খাতা আমি দেখেছি। তারা পাশ করবে। আপনি এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করবেন না। তাহলে, কেউ জানবে না।”
উপজেলা প্রশাসনের কাউকে জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব বলেন, “এই ঘটনা কাউকে জানানো হয়নি।”
তারাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, “ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি কেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট কেউ আমাকে জানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানলাম। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/মিলন/রফিক
তৃতীয় ওয়ানডে: নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ