ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪৩৩ || ৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঝালকাঠিতে দেশি গরুতে আগ্রহী ক্রেতা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ২৬ মে ২০২৬   আপডেট: ০৯:০৮, ২৬ মে ২০২৬
ঝালকাঠিতে দেশি গরুতে আগ্রহী ক্রেতা

ঝালকাঠির একটি পশুর হাট।

পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি দুইদিন। ঝালকাঠিতে ইতোমধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। হাটে দেশি-বিদেশি নানা জাতের গরু উঠলেও সামর্থ্য বিবেচনায় অধিকাংশ ক্রেতাই ঝুকছেন ছোট ও মাঝারি সাইজের দেশি গরুর দিকে।

জেলার সদর উপজেলা, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার এ বছর প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে বসেছে পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ছে হাটগুলোতে।

আরো পড়ুন:

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাট গুলোতে আসতে শুরু করেন ক্রেতারা। গত কয়েকদিন তেমন বেচাকেনা না হলেও সোমবার (২৫ মে) হাটে অনেক ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। 

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে হাটের প্রাণচাঞ্চল্য। জেলার সবচেয়ে বড় পশুরহাট বসেছে ঝালকাঠির সুগন্দিয়া, জেলা শহরের বিকনা, গুরুদাম, গাবখান, বাউকাঠি, নলছিটির চায়না মাঠ ও রাজাপুরের বাঘরি এলাকায়। এসব হাটে পর্যাপ্ত গরু, ছাগল ও মহিষ থাকলেও বেচাকেনা ছিল খুবই কম। 

হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশি ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। অনেকেই আগেভাগেই পশু কিনে রাখছেন, যাতে শেষ মুহূর্তের ভিড় ও অতিরিক্ত দামের চাপ এড়ানো যায়। 

ঝালকাঠি পৌর এলাকার হাটে কথা হয় খামারি মো. বাদশা হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে গরু পালন করতে অনেক খরচ হয়েছে। গো-খাদ্য, ভূসি, খৈল ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই একটু বেশি দামে গরু বিক্রি না করলে লাভ থাকবে না। 

হাটে গরু কিনতে আসা সদর উপজেলার বাসিন্দা শুওকত হোসেন বলেন, “একটি ভালো মানের গরু কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম চাচ্ছেন। তারপরও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের জন্য কিনতেই হবে।” 

এদিকে, পশুর হাটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। হাট এলাকায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ২৩৪টি। খামারিদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে ৩০ হাজার ৫৮৮টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৩৫৪টি পশু বেশি রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় মোট খামারের সংখ্যা ১ হাজার ৫৩৫টি। এর মধ্যে ১৬৩টি নিবন্ধিত এবং ১ হাজার ৩৭২টি অনিবন্ধিত। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নীরোদ বরণ জয়ধর বলেন, ‘ঝালকাঠিতে দেশি গরু পালনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। খামারিরা বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক উপায়ে পশু হৃষ্টপুষ্ট করছেন। জেলার ১ হাজার ৫৩৫টি খামার নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোরবানি উপলক্ষে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে।’

ঢাকা/অলোক/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়