ঢাকা     সোমবার   ২৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩৩ || ৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কয়লার দামে চাপে কামাররা, তবুও মুনাফার আশা

সিলেট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫২, ২৫ মে ২০২৬  
কয়লার দামে চাপে কামাররা, তবুও মুনাফার আশা

কোরবানির পশুর মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সিলেটের কামাররা।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সিলেটের কামারপল্লিগুলোতে এখন ব্যস্ত সময়। আগুনের ভাটিতে লোহা পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ছুরি, দা, চাপাতি, বঁটিসহ কোরবানির নানা সরঞ্জাম। তবে, বছরের সবচেয়ে বড় এই মৌসুমেও স্বস্তিতে নেই কামাররা। কয়লা, দোকান, বাসাভাড়া, শ্রমিক খরচ এবং কাঁচামালের বাড়তি দামে আগের মতো লাভ করতে পারছেন না তারা। এরপরও ঈদের বাজার ঘিরে নতুন আশায় দিন পার করছেন কারিগররা।

নগরের আম্বরখানা, কাজিটুলা, শেখঘাট এলাকার বিভিন্ন কামারপল্লিতে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। ভাটির আগুন আর হাতুড়ির শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে এসব এলাকা।

আরো পড়ুন:

আম্বরখানা এলাকার কামারপল্লিতে কাজ করছিলেন কারিগর নিখিল রঞ্জন দাস। লাল হয়ে ওঠা লোহায় হাতুড়ির আঘাত করতে করতে তিনি বলেন, “আমরা নিজেরাই ভালো মানের ছুরি-চাকু তৈরি করি। প্রতিটি পণ্যে আমাদের আলাদা মনোগ্রাম ও নম্বর থাকে। বাজারে কিছু নিম্নমানের পণ্য আছে, কিন্তু সেগুলো আমাদের তৈরি নয়।”

পণ্যের চাহিদা বাড়লেও খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে গেছে বলে জানান তিনি। নিখিল বলেন, “কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। এখন কয়লা পাওয়াও কঠিন। আগে কম দামে বিক্রি করেও কিছু লাভ থাকত, এখন বেশি দামে বিক্রি করেও লাভ হয় না। কয়লা, মেশিন, ঘরভাড়া সবকিছুর খরচ বেড়েছে।”

তিনি জানান, মাংস কাটার ছোট ছুরি ১০০ টাকা থেকে শুরু। পশু জবাইয়ের বড় ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের চাপাতি ও ব্লেডের দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

নিজেদের আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন নিখিল। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো বড় মূলধন নেই। প্রতিদিন যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়। দোকানভাড়া বা বাসাভাড়া সময়মতো দিতে পারি না। সঞ্চয় নেই বললেই চলে।”

প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত স্বদেশ চন্দ্র দে জানান, কোরবানির ঈদকে ঘিরেই তাদের বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হয়। এই সময়টিতে সারা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

তিনি বলেন, “ঈদের আগে সাধারণত ১৫ দিন খুব ব্যস্ত সময় কাটে। তখন অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত দম ফেলার সুযোগ থাকে না। কোরবানির সময় ছুরি-চাকুর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়।” 

কারিগর রতন রায়ও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, “সারা বছর ছুরি-চাকু তৈরির কাজ করলেও কোরবানির সময়ই সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে। এই কয়েক দিনের ব্যবসা থেকেই সারা বছরের বড় অংশের আয় আসে।”

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এখনো মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। তবে সামনে বাজার আরো জমে উঠবে বলে আশা করছি। গত বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে।”

ঢাকা/রাহাত/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়