বোরো ধান হারিয়ে দিশেহারা হাওরের কৃষক, ঘরে নেই ঈদের আনন্দ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পচা ধান শুকাচ্ছেন কৃষক। ছবি: রাইজিংবিডি
মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরসহ বিস্তীর্ণ হাওর জনপদে এ বছর বোরো মৌসুম যেন কৃষকের আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে এসেছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানির নিচে তলিয়ে গেছে মাঠের পাকা ধান। বছরের একমাত্র ভরসার ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষক। ঈদের আনন্দ ভুলে অনেকেই এখন চিন্তায়- কীভাবে শোধ করবেন এনজিওর কিস্তি আর ধারদেনা।
হাকালুকি, কাউয়াদিঘি, হাইল হাওরসহ হাওরাঞ্চলে মাঠজুড়ে এখনো ক্ষত চিহ্ন স্পষ্ট। কৃষি বিভাগের হিসাবে, নষ্ট হয়েছে প্রায় ২১ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান। যে ধান বিক্রি করে কৃষক পরিবারে কোরবানি দেওয়া ও শিশুদের নতুন পোশাক কেনার কথা ছিল-সেই ঘরেই এখন হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস।
কাউয়াদিঘি হাওর জনপদের শাওইজুড়ি, পাগুরিয়া, মিরপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা এখনো পচা ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
এসময় কথা হয় পাগুরিয়া গ্রামের কাজল বিবির সঙ্গে। তিনি বলেন, “এবার আমাদের ঈদ নেই। ধান ঘরে তুলতে পারিনি। এখন ঈদের আনন্দের চিন্তা না, খাওয়ার চিন্তা নিয়েই বিপাকে আছি।”
মিরপুর গ্রামের সানা বেগম বলেন, “আমরা এনজিওর কিস্তির জালে আবদ্ধ। তাদের টাকা না দিলে উপায় থাকবে না। কোরবানি না দিলে আল্লাহ মাফ করবেন, আমাদের এবার কোরবানি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঈদের আনন্দ নেই আমাদের।”
পাগুরিয় গ্রামের রুফিয়ান মিয়া বলেন, “প্রতি বছর বোরো ধান বিক্রির টাকায় ঈদকে ঘিরে হাওরাঞ্চলের বাজারগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও এবার নেই।”
একই এলাকার শাহিদ মিয়া বলেন, “হাওরের কৃষকের কাছে বোরো ধান শুধু ফসল নয়, সারা বছরের বেঁচে থাকার অবলম্বন। সেই স্বপ্নই এবার বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে। তাই ঈদের আনন্দের বদলে হাওর জনপদজুড়ে এখন শুধু হতাশা আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘশ্বাস।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “জেলায় প্রায় ২৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের হিসাবে, নষ্ট হয়েছে প্রায় ২১ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে ও প্রণোদনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
ঢাকা/আজিজ/ফিরোজ
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১৭, মোট মৃত্যু সাড়ে ৫০০ ছুঁইছুঁই