ঢাকা     সোমবার   ২৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩৩ || ৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বৃষ্টি উপেক্ষা করে জমজমাট কালশী পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৪, ২৫ মে ২০২৬  
বৃষ্টি উপেক্ষা করে জমজমাট কালশী পশুর হাট

ছবি: রাইজিংবিডি

টানা বৃষ্টিতেও যাতে কোরবানির পশুর কেনাবেচা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে রাজধানীর কালশী পশুর হাটজুড়ে করা হয়েছে বিশাল ছামিয়ানার ব্যবস্থা। ফলে বাইরে ভারী বর্ষণ হলেও হাটের ভেতরে স্বস্তিতে গরু দেখছেন ক্রেতারা, আর নিশ্চিন্তে পশু নিয়ে অবস্থান করছেন ব্যাপারিরা।

সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর কালশী গরুর হাটে এমন চিত্র দেখা যায়।

আরো পড়ুন:

কালশী ১৬ বিঘা বালুর মাঠে বসা এ হাটটি কালশী মোড়ের পাশেই অবস্থিত। ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুরের দিকে যেতে সড়কের ডান পাশেই চোখে পড়ে সুপরিসর ও গুছানো এ পশুর হাট। পুরো হাটজুড়ে ছাউনির ব্যবস্থা থাকায় কাদা-পানির দুর্ভোগ ছাড়াই চলছে বেচাকেনা।

হাট কমিটির সদস্য মাসুদ বলেন, “বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আগেভাগে পরিকল্পনা করেছি। পুরো হাট ছামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যাতে বৃষ্টি কোনোভাবেই গরু বিক্রিতে বাধা না হয়। ঢাকার অন্য কোনো হাটে এমন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ খুব কমই দেখা যায়। তীব্র বৃষ্টির মধ্যেও ব্যাপারিরা নিশ্চিন্তে আছেন। কোথাও সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু। ক্রেতারা দল বেঁধে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন। বাইরে বৃষ্টি থাকলেও হাটের ভেতরে ছিল ক্রেতাদের উপস্থিতি। মাইকিং, বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর গরুর ডাক মিলিয়ে জমে উঠেছে কোরবানির আমেজ।”

তবে বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সিরাজগঞ্জ থেকে ১৭টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারি মনির হোসেন বলেন, “গতকাল রাতেই হাটে এসেছি। এখন পর্যন্ত একটি গরু বিক্রি হয়েছে। সকালে কিছু ক্রেতা এসেছিল, কিন্তু বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর লোকজন কমে গেছে। তবে দরদাম মোটামুটি ভালো আছে। মূল কেনাবেচা এখনও শুরু হয়নি। আশা করছি আগামীকাল থেকে বিক্রি বাড়বে।”

পাবনা থেকে ৩৪টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারি বারেক মণ্ডল বলেন, “দুইটা গরু বিক্রি করেছি। বৃষ্টির কারণে মানুষ কম আসছে। তবে যারা আসছেন তারা ভালোভাবেই গরু দেখছেন। ঈদের যত কাছাকাছি যাবে, বিক্রিও বাড়বে।”

কালশী এলাকার ব্যবসায়ী সারওয়ার হোসেন গরু কিনতে এসে বলেন, “হাটের পরিবেশ অনেক ভালো। কাদা নেই, হাঁটাচলায় সমস্যা হচ্ছে না। গরুর দামও মোটামুটি সহনীয়। বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম চাইছেন না।”

ক্রেতা আবদুল কাদের, “বৃষ্টির মধ্যে এমন সুন্দর ব্যবস্থাপনা সত্যিই স্বস্তিদায়ক। পরিবার নিয়ে এসেও গরু দেখা যাচ্ছে। পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।”

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মনির হোসেন একটি গরু কিনেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, “হাটের ব্যবস্থাপনা খুব ভালো লেগেছে। বৃষ্টি থাকলেও কোনো ভোগান্তি হয়নি। গরুটাও পছন্দমতো পেয়েছি, দামও তুলনামূলক সহনীয়।”

জামালপুর থেকে আসা বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম বৃষ্টিতে অনেক সমস্যা হবে। কিন্তু এখানে এসে দেখি পুরো হাট ছাউনির নিচে। গরু রাখতেও সুবিধা হচ্ছে, ক্রেতারাও স্বস্তিতে ঘুরে দেখছেন।”

ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “অনেক হাটে কাদা-পানির কারণে দাঁড়ানো যায় না। কিন্তু এখানে পরিবেশ ভালো হওয়ায় সময় নিয়ে গরু দেখা যাচ্ছে।”

হাটে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি টিম। কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো হাটকে আনা হয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়।”

ঢাকা/নজরুল/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়