পুশইন ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির পাশে আনসার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে অংশ নেওয়া আনসার সদস্যরা।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)। জেলার ৯টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে বিজিবির সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন তারা।
মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) আওতাধীন ১৭টি বিওপির মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ৯টি পয়েন্টে তিনজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৫ জুন) থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে এই মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়। শনিবার (৬ জুন) রাতে বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে যৌথ টহলও দিয়েছেন আনসার সদস্যরা।
এর আগে, শনিবার আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা আরো কঠোর করতে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ রুখতে বিজিবির পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান ও চোরাপথগুলো সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই কৌশলকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহী রেঞ্জ আনসার-ভিডিপির পরিচালকের নির্দেশনায় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্টের তত্ত্বাবধানে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এলাকা সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে- এমন ৩৩ জন দক্ষ আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে বিজিবির সঙ্গে সরাসরি সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তর জানায়, ভোলাহাট উপজেলার চানশিকারী, চামুংগা, ভোলাহাট, গিলাবাড়ি, চরধরমপুর, সুরানপুর, পোলাডাঙ্গা ও খড়গপুর বিওপি। গোমস্তাপুর উপজেলার বাংগাবাড়ি বিওপিতে তারা বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলোতে নেওয়া হয়েছে ভিন্ন কৌশল। সেখানকার ইউনিয়ন আনসার দলনেতা ও আনসার কমান্ডাররা ইতোমধ্যে নিকটবর্তী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারের সঙ্গে সাক্ষাত করে জরুরি যোগাযোগের নম্বর বিনিময় করেছেন। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা মাত্র বা বিজিবির ডাক পাওয়া মাত্রই আনসার-ভিডিপি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধে যোগ দেবেন।
মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সীমান্ত এলাকায় রাতেই আনসার-ভিডিপি সদস্যরা টহল দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ব্যাটালিয়নের ১৭টি বিওপির মধ্য ৯ টিতে তিনজন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন।”
ঢাকা/গালিভ/মাসুদ