ঢাকা     শনিবার   ২০ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৬ ১৪৩৩ || ৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

উত্তাল সাগরে মাছের আকাল, নিরাপদ আশ্রয়ে হাজারো ট্রলার

পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৫২, ২০ জুন ২০২৬   আপডেট: ০৯:৫৪, ২০ জুন ২০২৬
উত্তাল সাগরে মাছের আকাল, নিরাপদ আশ্রয়ে হাজারো ট্রলার

সাগর উত্তাল থাকায় তীরে ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।

১১ জুন মধ্যরাতে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সমুদ্রে গিয়ে আশানুরূপ মাছের দেখা পাননি জেলেরা। এরই মধ্যে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে টিকতে না পেরে পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুরের খাপড়াভাঙ্গা নদীতে আশ্রয় নিয়েছে হাজারো মাছধরা ট্রলার।

আরো পড়ুন:

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকে একের পর এক ট্রলার অনেকটা মাছ শূন্য অবস্থায় এ নদীতে আসতে শুরু করে। 

এদিকে, দীর্ঘ অবরোধেরও পরও সমুদ্রে মাছের অকাল থাকায় নতুন করে ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়ছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সমুদ্রে অসাধু জেলেদের মাছ শিকার এবং ট্রলিং ট্রলারের অবাধ বিচরণের কারণে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ার দাবি জেলেদের। তারা ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি ট্রলিং ট্রলার বন্ধ এবং সাগরে মাছের প্রজননের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। 

আলিপুরের এফবি ভাই ভাই ট্রলারের মাঝি ছমেদ মিয়া বলেন, “অররোধ শেষ হওয়ার রাতেই আমরা সাগরে গিয়েছিলাম। কয়েকবার জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ মেলেনি। যা পেয়েছিলাম তা দিয়ে বাজার খরচও ওঠেনি। এরই মধ্যে হঠাৎ সাগর উত্তল হয়ে উঠেছে। আমরা টিকতে না পেরে ফের তীরে ফিরে এসেছি। নতুন করে ধারদেনায় জড়িয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে ফের সাগরে যাত্রা করব।” 

মহিপুরের এফবি মা-বাবা দোয়া ট্রলারের মাঝি রহমান সিকদার বলেন, “অবরোধকালীন সময়ে বেশ কিছু অসাধু জেলে সাগরে অবাধে মাছ শিকার করেছে। অবৈধ ট্রলিং ট্রলারের অবাধ বিচরণ রয়েছে। এসব কারণেই আমরা সাগরে গিয়ে মাছ পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে এই পেশায় টিকে থাকা দায় হয়ে পড়বে।” 

মহিপুরের জেলে শাহজালাল মিয়া বলেন, “সমুদ্রে প্রচণ্ড ঢেউ। যার কারণে আমরা সাগরে টিকতে না পেরে তীড়ে ফিরে এসেছি। সাগরে গিয়ে চার থেকে পাঁচটি খ্যাও (জাল ফেলা) দিয়েছিলাম কিন্তু খুবই কম মাছ পেয়েছি।” 

অপর জেলে হাফেজ জলিল বলেন, “সমুদ্র স্রোতের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। যে কারণে সমুদ্রের টিকা মুশকিল হয়ে গেছে। তাই আমরা গত বৃহস্পতিবার রাতে ফিরে এসেছি। আমরা খুবই কম মাছ পেয়েছি। যা পেয়েছি তা দিয়ে বাজার খরচ উঠবে না।”

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “অবরোধ সফল করতে আমরা বেশকিছু অভিযান চালিয়েছিলাম। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে অনেক জেলে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে আসলে গভীর সাগরে গিয়ে জাল ফেললে তারা কাঙ্ক্ষিত মাছ পাবেন।” 

ঢাকা/ইমরান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়