সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরান বৈঠক স্থগিত
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পরিকল্পিত সফরটি স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এক ঘোষণায় হোয়াইট হাউজ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।
বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ জানায়, এই প্রযুক্তিগত আলোচনার পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রথম সুযোগেই রওয়না হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এই আলোচনার যোগাযোগ ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনা কখনই সহজ বা অনুমানযোগ্য ছিল না।”
লেবাননের হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’-এর একটি রিপোর্টের পরই মূলত হোয়াইট হাউজের এই ঘোষণাটি সামনে এলো। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলার প্রতিবাদে তেহরান তাদের প্রতিনিধি দলের সুইজারল্যান্ড সফর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
এর আগে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স মুখোমুখি আলোচনাকে ‘প্রয়োজনীয়’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যোগ করেন যে, এর মানে ‘শত্রুর মতামত মেনে নেওয়া নয়’। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আলোচনার জন্য তিনি ঠিক কবে নাগাদ সফর করবেন তা এখনো জানেন না।
গত বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ‘সব ফ্রন্টে’ যুদ্ধ শেষ করার এবং ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।
এই সমঝোতা স্মারকটি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও স্বাক্ষর করেছেন। এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠী এবং তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে আরো ব্যাপক আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক থেকেই ৬০ দিনের ওই আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। এতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্ত থাকবেন, যাতে চুক্তির রূপরেখাটিকে একটি সুনির্দিষ্ট রূপ দেওয়া যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এই প্রণালিতে চলমান অবরোধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
এই চুক্তির রূপরেখায় ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এতে ‘১০ সেন্টও’ দেবে না।
এদিকে এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন ঘরোয়া রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্প কেবল বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের থেকেই নয়, নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
লুইজিয়ানার রিপাবলিকান ইউএস সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই রূপরেখাকে একটি ‘পররাষ্ট্রনীতির মারাত্মক ভুল’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে ক্যাসিডি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমি যে বিবরণগুলো দেখেছি তা... ভয়াবহ লাগছে। এটি একটি মারাত্মক পররাষ্ট্রনৈতিক ভুল হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে।”
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য গ্রেগরি মিকস, জিম হাইমস এবং অ্যাডাম স্মিথ এই সমঝোতা স্মারকের সম্পূর্ণ মূল পাঠ্যটি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এবং এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে একটি জরুরি ব্রিফিং চেয়েছেন।
ঢাকা/ফিরোজ