ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৫ ১৪৩৩ || ৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দেশীয় বিনিয়োগে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বিডা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৩৭, ১৯ জুন ২০২৬   আপডেট: ০৮:৩৮, ১৯ জুন ২০২৬
দেশীয় বিনিয়োগে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বিডা

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের চেয়ে দেশীয় বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সংস্থাটির মতে, বর্তমান বাস্তবতায় অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিডা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রবাহ ও বিনিয়োগ সহজীকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

তিনি বলেন, “বৈশ্বিক অস্থিরতা ও চলমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগের দিকে অতিরিক্ত নির্ভর না করে দেশের ভেতরে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।”

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “আন্তর্জাতিক সংঘাত, জ্বালানির মূল্য অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দেশের অব্যবহৃত শিল্প সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তার ভাষ্য, বেসরকারিকরণ ও সম্পদ নগদীকরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বন্ধ বা অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার পথ খোঁজা হচ্ছে।

বিডা চেয়ারম্যান জানান, সাম্প্রতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের পর বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে মোট বিনিয়োগেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। তবে, অনেক বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সময় লাগছে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেক বিনিয়োগকারী নির্বাচনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও তেলের বাজারের অস্থিরতায়, তারা আবারো সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বর্তমানে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।”

জ্বালানি সংকটকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিল্প উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি। বিশেষ করে গ্যাস সংকট উৎপাদন খাতকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাজ করছে বিডা।” তার মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। তবে, এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর প্রসঙ্গে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, “সফরটি অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও বিনিয়োগ- সবদিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ উৎস হিসেবে চীন ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রাখছে। এ কারণে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা বন্দরসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে।”

বিডা চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগে দুই ধাপে ১০টি অঞ্চল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও এখন সবগুলো অঞ্চলকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল সরকার ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হতে পারে। আপাতত নির্ধারিত ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সফলভাবে বাস্তবায়ন করাই বিডার প্রধান লক্ষ্য।”

ঢাকা/তুহিন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়