ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩৩ || ২ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে চায় না গাড়ি

রফিক সরকার, গাজীপুর (পূর্ব) || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৭, ১৮ জুন ২০২৬   আপডেট: ১০:৫৫, ১৮ জুন ২০২৬
ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে চায় না গাড়ি

সড়ক পারাপারের জন্য ফেনসিং কেটে ফেলা হয়েছে।

ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও সুফল মিলছে না। অধিক টোল ও ১৮ কিলোমিটার সড়কে র‌্যাম্প ও পর্যাপ্ত ইউটার্ন না থাকায় অধিকাংশ চালক এক্সপ্রেসওয়ে বাদ দিয়ে সাধারণ সড়ক ব্যবহার করছেন। তারা জানান, মাত্র ১৮ কিলোমিটার পথ যেতে ৬১০ টাকা টোল দিতে হয়। এর সঙ্গে কাঞ্চন সেতুর টোল যোগ করলে খরচ দাঁড়ায় ৭৪০ টাকা। মালিকেরা এই অতিরিক্ত খরচ দিতে চান না।

আরো পড়ুন:

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উত্তরবঙ্গমুখী পণ্যবাহী যানবাহন যাতে রাজধানী ঢাকার যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে- সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছিল ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ। ২০২২ সালের মার্চে শুরু হওয়া ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে।

তবে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পুরো প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ। এরই মধ্যে গাজীপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে, বাস্তবতা বলছে, চালু হওয়া অংশে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম গাড়ি যাতায়াত করছে।

এক্সপ্রেসওয়ের সমান্তরালে থাকা পুরোনো সড়কে এখনো দেখা যায় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি। নতুন সড়কটি যেখানে হওয়ার কথা ছিল পরিবহন যাতায়াতের প্রধান ভরসা, সেখানে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চালক বেছে নিচ্ছেন আগের পথই।

কারণ জানতে চাইলে ট্রাকচালক সাদেকুল ইসলাম হিসাব কষে বলেন, “মাত্র ১৮ কিলোমিটার পথ যেতে ৬১০ টাকা টোল দিতে হয়। এর সঙ্গে কাঞ্চন সেতুর টোল যোগ করলে খরচ দাঁড়ায় ৭৪০ টাকা। মালিকেরা এই অতিরিক্ত খরচ দিতে চান না।” তার মতো অনেক চালকের কাছে সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে খরচ বাঁচানো।

যেখানে সময় বাঁচার কথা, সেখানেই বাড়ছে পথ
এক্সপ্রেসওয়ের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় র‍্যাম্পের অনুপস্থিতি। বিশেষ করে মীরেরবাজার এলাকায় সংযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কালীগঞ্জ, নরসিংদী ও সিলেটমুখী শিল্পাঞ্চল থেকে আসা অসংখ্য পণ্যবাহী যানবাহন সরাসরি এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে পারছে না।

ঝুকি নিয়ে সড়ক পার হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থী ও এক নারী


কাভার্ড ভ্যানচালক জুয়েল রানা বলেন, “সিলেট, নরসিংদী এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ শিল্পাঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু মীরেরবাজারে র‍্যাম্প না থাকায় এসব যানবাহন সরাসরি এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে চালকদের অনেক দূর ঘুরে নির্ধারিত প্রবেশপথ ব্যবহার করতে হয়। এতে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয়। এতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।”

এদিকে, আন্ডারপাস থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহার করতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ফেনসিং কেটে রাস্তা পারাপার করছেন। প্রতিদিনের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত এক নীরব আতঙ্কের নাম বলছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় পর্যাপ্ত ওভারপাস কিংবা আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়নি বলেই তারা বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকি নিতে।

মৈরান এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের আগে সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লাগত। কিন্তু এখন আন্ডারপাস ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে অনেক সময় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লেগে যায়। ফলে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।”

ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সাঈদ আহমেদ বলেন, “সরকার নির্ধারিত হার অনুযায়ী টোল আদায় করা হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন এক্সিট পয়েন্টের নির্মাণকাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সড়কের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার না করে বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। ওয়েট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহনগুলো আর সাধারণ সড়ক ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে এসব যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ের দিকে ঝুঁকবে এবং সড়কটির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।”

সাঈদ আহমেদ বলেন, “এক্সপ্রেসওয়ের নেটিং কেটে সাধারণ মানুষের অবৈধভাবে সড়ক পারাপার রোধে আমাদের পেট্রোল টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”

ঢাকা/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়