হরমুজ প্রণালিতে এখনও নিরাপত্তা শঙ্কা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সমুদ্রে মাইনের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও)। সংস্থাটি বলেছে, মাইন অপসারণ কার্যক্রম চলমান থাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে এবং এ জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউকেএমটিওর সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে হুমকির মাত্রা বর্তমানে ‘মধ্যম’ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দিন আগে সংস্থাটি যে ‘উল্লেখযোগ্য’ হুমকির সতর্কতা জারি করেছিল, তার তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরো বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটে দিন ও রাত উভয় সময়েই জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে নাবিক ও জাহাজ পরিচালনাকারীদের সতর্ক করে ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সমুদ্রে মাইন থাকতে পারে এবং সেগুলো অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে।
একই সঙ্গে জাহাজগুলোকে ন্যাটোর তৈরি ন্যাভাল কো-অপারেশন অ্যান্ড গাইডেন্স ফর শিপিং (এনসিজিএস) ব্যবস্থা ব্যবহারের জন্য জোরালোভাবে উৎসাহিত করেছে সংস্থাটি। ন্যাটোর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা সামরিক বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৪ জুন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি ‘খুলে দেওয়ার’ ঘোষণাও দেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত শুরুর আগের মতো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথে বড় কিছু বাধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিরাপত্তা।
ঢাকা/ইভা